১৭/২৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৪৫৭ - গীলা ও আযল সম্পর্কে শিক্ষা
‘গীলাহ্’ অর্থাৎ স্তন্যদায়িনী স্ত্রীর সাথে সঙ্গমের বৈধতা এবং ‘আয্ল মাকরূহ হওয়া প্রসঙ্গে
গীলা ও আযল: হাদিসের সতর্ক শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৩৪৫৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৪৫৭
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ، بْنُ أَبِي أَيُّوبَ حَدَّثَنِي أَبُو الأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنْ جُدَامَةَ بِنْتِ وَهْبٍ، أُخْتِ عُكَّاشَةَ قَالَتْ حَضَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فِي أُنَاسٍ وَهُوَ يَقُولُ «لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَنْهَى عَنِ الْغِيلَةِ فَنَظَرْتُ فِي الرُّومِ وَفَارِسَ فَإِذَا هُمْ يُغِيلُونَ أَوْلاَدَهُمْ فَلاَ يَضُرُّ أَوْلاَدَهُمْ ذَلِكَ شَيْئًا» . ثُمَّ سَأَلُوهُ عَنِ الْعَزْلِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «ذَلِكَ الْوَأْدُ الْخَفِيُّ " . زَادَ عُبَيْدُ اللَّهِ فِي حَدِيثِهِ عَنِ الْمُقْرِئِ وَهْىَ ﴾وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ﴿
উকাশার ভগ্নি জুদামাহ্ বিনতু ওয়াহ্ব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি একদিন কিছু সংখ্যক লোকের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে হাজির হলাম। তিনি তখন বলছিলেন, আমি স্তন্যদায়িনী মহিলার সাথে সঙ্গম করা নিষেধ করার ইচ্ছা করলাম, এমতাবস্থায় আমি রোম ও পারস্যবাসী লোকদের অবস্থার কথা বিবেচনা করে অবগত হলাম যে, তারা তাদের স্তন্যদায়িনী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে থাকে, কিন্তু তা তাদের সন্তান সন্ততির কোনরূপ ক্ষতি করে না।অতঃপর লোকেরা তাঁকে ‘আয্ল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তা হল গোপন হত্যা। রাবী ‘উবায়দুল্লাহ্ তাঁর বর্ণনায় আল মুক্রি সূত্রে আয়াতটুকুও উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ “যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে কী অপরাধে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে”- (সূরা আত্ তাকভীরঃ ৮১:৮-৯)
ই.ফা. ৩৪৩০, ই.সে. ৩৪২৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৪৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুদামা বিনতু ওয়াহব (রাঃ) বলেন, তিনি কিছু লোকের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে ছিলেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলছিলেন, তিনি স্তন্যদানকারী মহিলার সঙ্গে সঙ্গম নিষেধ করার ইচ্ছা করেছিলেন। পরে তিনি রোম ও পারস্যবাসীর অবস্থা দেখলেন—তারা এমন করত, কিন্তু তাদের সন্তানদের ক্ষতি হতো না। এরপর লোকেরা তাঁকে আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “তা হল গোপন হত্যা।” বর্ণনায় সূরা তাকভীরের আয়াতের অংশও এসেছে। এখানে দুইটি বিষয় আলাদা করে এসেছে: গীলা বিষয়ে ক্ষতির কথা, আর আযল বিষয়ে কঠোর শব্দ। তাই ব্যাখ্যায় দুটিকে মিশিয়ে ফেলা উচিত নয়। “গীলা”, “আযল”, “গোপন হত্যা” এই হাদিসের প্রধান কীওয়ার্ড।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গীলা বিষয়ে নবী صلى الله عليه وسلم রোম ও পারস্যের উদাহরণ উল্লেখ করেছেন।
- আযল সম্পর্কে এই বর্ণনায় ‘গোপন হত্যা’ শব্দ এসেছে।
- একই হাদিসে থাকা দুই বিষয়কে আলাদা করে বোঝা দরকার।
- হাদিসের শব্দ যেমন এসেছে, তেমনভাবেই সতর্কতার সঙ্গে বলা উচিত।
