১৭/২৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৪৫৯ - সন্তানের ক্ষতি আশঙ্কায় আযল
‘গীলাহ্’ অর্থাৎ স্তন্যদায়িনী স্ত্রীর সাথে সঙ্গমের বৈধতা এবং ‘আয্ল মাকরূহ হওয়া প্রসঙ্গে
সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কায় আযল করার হাদিস
সহীহ মুসলিম : ৩৪৫৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৪৫৯
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ نُمَيْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمَقْبُرِيُّ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، حَدَّثَنِي عَيَّاشُ بْنُ عَبَّاسٍ، أَنَّ أَبَا النَّضْرِ، حَدَّثَهُ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ، أَخْبَرَ وَالِدَهُ، سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ إِنِّي أَعْزِلُ عَنِ امْرَأَتِي . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لِمَ تَفْعَلُ ذَلِكَ» . فَقَالَ الرَّجُلُ أُشْفِقُ عَلَى وَلَدِهَا أَوْ عَلَى أَوْلاَدِهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لَوْ كَانَ ذَلِكَ ضَارًّا ضَرَّ فَارِسَ وَالرُّومَ " .وَقَالَ زُهَيْرٌ فِي رِوَايَتِهِ «إِنْ كَانَ لِذَلِكَ فَلاَ مَا ضَارَ ذَلِكَ فَارِسَ وَلاَ الرُّومَ ".
উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, আমি আমার স্ত্রীর সাথে ‘আয্ল করে থাকি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি এ কাজ কেন কর? লোকটি বলল, আমি তার সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি এ কাজ ক্ষতিকর হত তাহলে তা পারস্য ও রোমবাসীদেরও ক্ষতিসাধন করত। রাবী যুহায়র তাঁর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, এ কাজ (‘আয্ল) যদি এ উদ্দেশ্যেই হয় তাহলে তা করা সঠিক নয়। কেননা তা পারস্য ও রোমবাসীদের কোন প্রকার ক্ষতি করে নি।
ই.ফা. ৩৪৩২, ই.সে. ৩৪৩১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৪৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে বলেন, তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে আযল করেন। নবী صلى الله عليه وسلم জিজ্ঞেস করেন, কেন তিনি এমন করেন। লোকটি জানায়, সে স্ত্রীর সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করে। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, যদি এটি ক্ষতিকর হতো, তাহলে তা পারস্য ও রোমবাসীদেরও ক্ষতি করত। যুহাইরের বর্ণনায় এসেছে, যদি এ উদ্দেশ্যেই হয়, তাহলে তা সঠিক নয়; কারণ তা পারস্য ও রোমবাসীর কোনো ক্ষতি করেনি। এই বর্ণনায় মূল বিষয় হলো—আযলের পেছনে সন্তানের ক্ষতির ভয় ছিল, আর নবী صلى الله عليه وسلم সেই ভয়কে রোম ও পারস্যের উদাহরণ দিয়ে বোঝালেন। “আযল”, “সন্তানের ক্ষতি” ও “রোম পারস্য” এখানে প্রধান কীওয়ার্ড।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোনো কাজের কারণ নবী صلى الله عليه وسلم জানতে চেয়েছেন—এতে উদ্দেশ্যের গুরুত্ব বোঝা যায়।
- সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা নিয়ে লোকটি প্রশ্ন করেছিল।
- নবী صلى الله عليه وسلم রোম ও পারস্যের উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বুঝিয়েছেন।
- ভয় বা ধারণার উপর সিদ্ধান্ত না নিয়ে জেনে নেওয়া দরকার।
