২১/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৭১ - শরীয়তের বাইরে শর্ত বাতিল
প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ
ওয়ালা ও বাতিল শর্ত: বারীরার ঘটনার শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৩৬৭১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৬৭১
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ، بْنُ عُرْوَةَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَتْ عَلَىَّ بَرِيرَةُ فَقَالَتْ إِنَّ أَهْلِي كَاتَبُونِي عَلَى تِسْعِ أَوَاقٍ فِي تِسْعِ سِنِينَ فِي كُلِّ سَنَةٍ أُوقِيَّةٌ . فَأَعِينِينِي . فَقُلْتُ لَهَا إِنْ شَاءَ أَهْلُكِ أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ عَدَّةً وَاحِدَةً وَأُعْتِقَكِ وَيَكُونَ الْوَلاَءُ لِي فَعَلْتُ . فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لأَهْلِهَا فَأَبَوْا إِلاَّ أَنْ يَكُونَ الْوَلاَءُ لَهُمْ فَأَتَتْنِي فَذَكَرَتْ ذَلِكَ قَالَتْ فَانْتَهَرْتُهَا فَقَالَتْ لاَهَا اللَّهِ إِذَا قَالَتْ . فَسَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَسَأَلَنِي فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ «اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمُ الْوَلاَءَ فَإِنَّ الْوَلاَءَ لِمَنْ أَعْتَقَ " . فَفَعَلْتُ - قَالَتْ - ثُمَّ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَشِيَّةً فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ فَمَا بَالُ أَقْوَامٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا كَانَ مِنْ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَهُوَ بَاطِلٌ وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ كِتَابُ اللَّهِ أَحَقُّ وَشَرْطُ اللَّهِ أَوْثَقُ مَا بَالُ رِجَالٍ مِنْكُمْ يَقُولُ أَحَدُهُمْ أَعْتِقْ فُلاَنًا وَالْوَلاَءُ لِي إِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ " .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন বারীরা (রাঃ) আমার কাছে এল। এরপর সে বলল, আমার মনিব আমাকে প্রতি বছর একটি করে নয় বছরে নয়টি ঊকীয়্যাহ্ (চল্লিশ দিরহামে এক ঊকীয়্যাহ্) আদায় করার শর্তে আমাকে মুক্তি দানের ব্যাপারে লিখিত চুক্তি করেছে। আপনি আমাকে সাহায্য করুন। আমি ['আয়িশাহ্ (রাঃ)] তাকে বললাম, তোমার মনিব যদি এ শর্তে রাজী হয় যে তোমার মুক্তিপণ এক সঙ্গে আদায় করে দিলে তোমার ‘ওয়ালা’ আমি পাব তাহলে আমি তোমাকে মুক্তির ব্যাপারে সাহায্য করতে চাই। তখন বারীরাহ্ (রাঃ) এ বিষয়টি তার মনিবের কাছে উঠালে তাদের জন্য ‘ওয়ালা’ ব্যতিরেকে তারা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল।এরপর সে আমার ['আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর] কাছে এসে তাদের কথা বলল। তিনি বলেন, আমি তাকে ধমক দিলাম। তখন সে বলল, তাহলে আল্লাহর কসম! (তা) হবে না। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিষয়টি শুনলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। তাঁর কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। এরপর তিনি বললেনঃ হে 'আয়িশাহ্! তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দাও এবং তাদের জন্যে ওয়ালা’র শর্ত করে দাও। তবে নিশ্চয়ই ‘ওয়ালা’ সে পাবে যে মুক্তি দান করে। আমি ('আয়িশাহ্) তাই করলাম।রাবী বলেনঃ এরপর সন্ধ্যা বেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভাষণ দিলেন। তিনি আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা ও তাঁর মহিমা ঘোষণা করলেন। এরপর বললেনঃ লোকের অবস্থা কেমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, তারা এমন সব শর্ত দেয় যা আল্লাহর কিতাবে নেই। স্মরণ রাখ, যে শর্ত আল্লাহর কিতাবে নেই, তা বাতিল বলে গণ্য, যদিও একশতবার শর্তারোপ করা হয়। আল্লাহর কিতাবের শর্তই যথার্থ সঠিক, আল্লাহর শর্তই সর্বাধিক সুদৃঢ়। তোমাদের মধ্যে কতক লোকের কী হয়েছে যে, তারা অপরকে বলে অমুককে মুক্ত করে দাও আর ‘ওয়ালা’ গ্রহণ করব আমরা? অথচ ‘ওয়ালা’ তো আসলে তারই পাওনা যে মুক্ত করে।
ই.ফা. ৩৬৩৭, ই.সে. ৩৬৩৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৬৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বারীরা (রাঃ)-এর মুক্তির চুক্তি, আয়িশা (রাঃ)-এর সাহায্যের ইচ্ছা এবং মনিবদের ওয়ালার শর্ত বিস্তারিত এসেছে। বারীরা প্রতি বছর এক উকিয়া করে নয় বছরে নয় উকিয়া পরিশোধের চুক্তি করেছিলেন। আয়িশা (রাঃ) পুরো অর্থ একসঙ্গে দিয়ে তাকে মুক্ত করতে চাইলে মনিবেরা ওয়ালা নিজেদের জন্য রাখার শর্ত করে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আয়িশা (রাঃ)-কে বলেন, তাকে কিনে মুক্ত করে দাও; ওয়ালা সে-ই পাবে যে মুক্ত করে। এরপর তিনি ভাষণে বলেন, আল্লাহর কিতাবে নেই এমন শর্ত বাতিল, যদিও তা বহুবার করা হয়। এই হাদিসে ‘শরীয়তের বাইরে শর্ত বাতিল’ ও ‘ওয়ালা মুক্তিদাতার অধিকার’ খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যে শর্ত আল্লাহর বিধানের বাইরে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
- মুক্তিদাতাই ওয়ালার অধিকারী।
- চুক্তিতে অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়ার শর্ত রাখা ঠিক নয়।
- নবী صلى الله عليه وسلم ভুল সামাজিক রীতিকে প্রকাশ্যে সংশোধন করেছেন।
