৩৩/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪২৯ - কেয়ামতে বিশ্বাসঘাতকের পতাকা
চুক্তিভঙ্গ হারাম
কেয়ামতের দিন বিশ্বাসঘাতকের পতাকা
সহীহ মুসলিম : ৪৪২৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৪২৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُلَيْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ عِنْدَ اسْتِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ».
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন: কিয়ামত দিবসে প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর নিতম্বের (পাছা) পার্শ্বে একটি পতাকা থাকবে।
ই.ফা. ৪৩৮৭, ই.সে. ৪৩৮৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেয়ামতের দিন প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর নিতম্বের পাশে একটি পতাকা থাকবে। বাক্যটি কঠিন শোনালেও এর মূল শিক্ষা খুব পরিষ্কার: বিশ্বাসঘাতকতা এমন কাজ, যা আখিরাতে লজ্জা ও পরিচয়ের কারণ হতে পারে। দুনিয়ায় কোনো ব্যক্তি চুক্তি ভেঙে নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কাছে তার কাজ অজানা নয়। এই হাদিস আমাদের ওয়াদা, চুক্তি ও দায়িত্বের ব্যাপারে সতর্ক করে। কারও সঙ্গে করা কথা, সামাজিক দায়িত্ব, লেনদেন বা নেতৃত্বের আমানত—সব ক্ষেত্রেই সততা জরুরি। অঙ্গীকার ভঙ্গের পতাকা হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গোপন অন্যায়ও একদিন প্রকাশ পেতে পারে। তাই ধোঁকা নয়, বিশ্বস্ততা মুমিনের পথ হওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিশ্বাসঘাতকতা আখিরাতে প্রকাশ্য লজ্জার কারণ হতে পারে।
- চুক্তি ও ওয়াদা রক্ষা করা মুসলিম জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
- গোপনে করা ধোঁকাও আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না।
- মানুষের হক নষ্ট করে নিজেকে নিরাপদ ভাবা উচিত নয়।
