৩৩/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪২৭ - বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি
চুক্তিভঙ্গ হারাম
বিশ্বাসঘাতকতার পতাকা ও কেয়ামতের পরিচয়
সহীহ মুসলিম : ৪৪২৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৪২৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُعْرَفُ بِهِ يُقَالُ هَذِهِ غَدْرَةُ فُلاَنٍ».
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামত দিবসে একটি পতাকা থাকবে, যদ্বারা তাকে চেনা যাবে। আর বলা হবে যে, এটি অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক।
ই.ফা. ৪৩৮৫, ই.সে. ৪৩৮৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর পরিণতি খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। দুনিয়ায় কেউ গোপনে চুক্তি ভাঙতে পারে, মানুষকে ধোঁকা দিতে পারে বা নিজের বিশ্বাসঘাতকতা ঢেকে রাখতে পারে। কিন্তু কেয়ামতের দিন তা গোপন থাকবে না। হাদিসে বলা হয়েছে, প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য একটি পতাকা থাকবে, যা দিয়ে তাকে চেনা যাবে। এমনকি বলা হবে, এটি অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক। এখানে মূল শিক্ষা হলো, অঙ্গীকার, চুক্তি ও আমানতকে হালকা করে দেখা যাবে না। বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি শুধু দুনিয়ার বদনাম নয়, আখিরাতেও তা প্রকাশ পেতে পারে। তাই মুসলিমের জীবনে সত্যবাদিতা, ওয়াদা পালন ও আমানতদারি বড় গুরুত্বের বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অঙ্গীকার ভঙ্গ করা আখিরাতে লজ্জার কারণ হতে পারে।
- মানুষের সঙ্গে করা চুক্তি ও ওয়াদা সততার সঙ্গে রক্ষা করা দরকার।
- গোপন বিশ্বাসঘাতকতাও কেয়ামতের দিন প্রকাশ পেতে পারে।
- আমানতদারি মুমিনের চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
