৩৩/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪২৮ - অঙ্গীকার ভঙ্গের সতর্কতা
চুক্তিভঙ্গ হারাম
অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর পরিচয় ও কেয়ামতের সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ৪৪২৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৪২৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُعْرَفُ بِهِ».
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামত দিবসে একটি পতাকা থাকবে, যেটা দিয়ে তাকে চেনা যাবে।
ই.ফা. ৪৩৮৬, ই.সে. ৪৩৮৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে অঙ্গীকার ভঙ্গের বিষয়টি সংক্ষিপ্ত হলেও গভীরভাবে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য কেয়ামতের দিন একটি পতাকা থাকবে, যা দিয়ে তাকে চেনা যাবে। দুনিয়ায় অনেক সময় মানুষ নিজের কথা, চুক্তি বা দায়িত্বকে ছোট মনে করে। কিন্তু এই হাদিস জানায়, এমন কাজ আল্লাহর কাছে গুরুতর হতে পারে। পতাকা দিয়ে চেনা যাওয়ার কথা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আখিরাতে কাজের আসল রূপ প্রকাশ পাবে। তাই বিশ্বাসঘাতকতা, ধোঁকা ও ওয়াদা ভঙ্গ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। এই শিক্ষা ব্যক্তি জীবন, পরিবার, ব্যবসা এবং সামাজিক সম্পর্ক—সব জায়গায় প্রযোজ্য। মুমিনের উচিত নিজের কথাকে মূল্য দেওয়া এবং অন্যের হক নষ্ট না করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অঙ্গীকার ভঙ্গ করা কেয়ামতে প্রকাশিত হওয়ার মতো গুরুতর বিষয়।
- ওয়াদা ও দায়িত্বকে ছোট করে দেখা ঠিক নয়।
- সত্যবাদিতা ও বিশ্বাস রক্ষা মুসলিম চরিত্রের অংশ।
- ধোঁকা থেকে বাঁচা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের পথ।
