৩৩/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪৩০ - শাসকের বিশ্বাসঘাতকতার ভয়াবহতা
চুক্তিভঙ্গ হারাম
শাসকের বিশ্বাসঘাতকতা ও কেয়ামতের পতাকা
সহীহ মুসলিম : ৪৪৩০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৪৩০
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا الْمُسْتَمِرُّ بْنُ الرَّيَّانِ، حَدَّثَنَا أَبُو نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرْفَعُ لَهُ بِقَدْرِ غَدْرِهِ أَلاَ وَلاَ غَادِرَ أَعْظَمُ غَدْرًا مِنْ أَمِيرِ عَامَّةٍ ".
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
প্রত্যেক ধোঁকাবাজের জন্য কিয়ামত দিবসে একটি পতাকা থাকবে আর তা তার বিশ্বাসঘাতকতার পরিমাণ অনুযায়ী উঁচু করা হবে। সাবধান! জনগণের শাসক হয়ে যে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তার চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক আর নেই।
ই.ফা. ৪৩৮৮, ই.সে. ৪৩৮৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিশ্বাসঘাতকতার কথা আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, প্রত্যেক ধোঁকাবাজের জন্য কেয়ামতের দিন একটি পতাকা থাকবে, আর তা তার বিশ্বাসঘাতকতার পরিমাণ অনুযায়ী উঁচু করা হবে। এরপর তিনি বিশেষভাবে জনগণের শাসকের বিশ্বাসঘাতকতার কথা বলেছেন। কারণ শাসক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির ভুল শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না; তার অধীনে থাকা মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই নেতৃত্ব, ক্ষমতা ও দায়িত্বকে আমানত হিসেবে দেখা দরকার। এই হাদিস নেতৃত্বের নৈতিকতা, জনতার হক এবং আখিরাতের জবাবদিহি মনে করিয়ে দেয়। কেউ যত বড় দায়িত্বে থাকবে, তার সততা ও ওয়াদা রক্ষার গুরুত্বও তত বেশি। ধোঁকা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানুষের অধিকার নষ্ট করা থেকে বেঁচে থাকা বড় শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিশ্বাসঘাতকতার মাত্রা অনুযায়ী কেয়ামতে তার পরিচয় প্রকাশ পেতে পারে।
- জনগণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির আমানত আরও গুরুতর।
- ক্ষমতা ও নেতৃত্ব ধোঁকার জায়গা নয়, জবাবদিহির জায়গা।
- মানুষের হক নষ্ট করা থেকে দায়িত্বশীলদের বেশি সতর্ক থাকা দরকার।
