৩৩/২২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪৮৯ - খন্দক শেষে বনী কুরাইযার বিচার
যে ব্যক্তি চুক্তি ভঙ্গ করে তাকে হত্যা করা বৈধ হওয়া এবং দুর্গের অধিবাসীদের কোন ন্যায়পরায়ণ ক্ষমতা প্রদত্ত বিচারকের নির্দেশে অবতরণ বৈধ হওয়া
খন্দক যুদ্ধের পর বনী কুরাইযার ঘটনা
সহীহ মুসলিম : ৪৪৮৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৪৮৯
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ نُمَيْرٍ، قَالَ ابْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أُصِيبَ سَعْدٌ يَوْمَ الْخَنْدَقِ رَمَاهُ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ يُقَالُ لَهُ ابْنُ الْعَرِقَةِ . رَمَاهُ فِي الأَكْحَلِ فَضَرَبَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ خَيْمَةً فِي الْمَسْجِدِ يَعُودُهُ مِنْ قَرِيبٍ فَلَمَّا رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنَ الْخَنْدَقِ وَضَعَ السِّلاَحَ فَاغْتَسَلَ فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ وَهُوَ يَنْفُضُ رَأْسَهُ مِنَ الْغُبَارِ فَقَالَ وَضَعْتَ السِّلاَحَ وَاللَّهِ مَا وَضَعْنَاهُ اخْرُجْ إِلَيْهِمْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «فَأَيْنَ». فَأَشَارَ إِلَى بَنِي قُرَيْظَةَ فَقَاتَلَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَنَزَلُوا عَلَى حُكْمِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْحُكْمَ فِيهِمْ إِلَى سَعْدٍ قَالَ فَإِنِّي أَحْكُمُ فِيهِمْ أَنْ تُقْتَلَ الْمُقَاتِلَةُ وَأَنْ تُسْبَى الذُّرِّيَّةُ وَالنِّسَاءُ وَتُقْسَمَ أَمْوَالُهُمْ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
খন্দকের যুদ্ধের দিন সা’দ (রাঃ) আঘাতপ্রাপ্ত হন। কুরায়শের ইবনুল আরিকা নামক এক ব্যক্তি তাঁর শিরায় তীর নিক্ষেপ করেছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সা’দ (রাঃ)-এর জন্য মসজিদে একটি তাঁবু স্থাপন করে দিলেন, যেন নিকট থেকে তাঁকে দেখাশোনা করা যায়। যখন তিনি (রাসূল (ﷺ)) খন্দকের যুদ্ধ থেকে ফিরে অস্ত্র রেখে সবেমাত্র গোসলের কাজ সমাপ্ত করেছেন এমন সময় জিবরাঈল (আঃ) স্বীয় মাথা থেকে ধূলিবালি ঝাড়তে ঝাড়তে আগমন করলেন। এরপর বললেন, আপনি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন? আল্লাহর শপথ! আমরা তো অস্ত্র রাখিনি। তাদের দিকে গমন করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কোন্ দিকে? তখন তিনি বানূ কুরাইযার দিকে ইঙ্গিত করলেন।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –এর নির্দেশে দুর্গ থেকে অবতরণ করলো। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বিচারের ভার (তাদের নেতা) সা’দ (রাঃ) এর উপর অর্পণ করলেন। সা’দ (রাঃ) বললেনঃ তাদের মধ্যে যুদ্ধের উপযুক্ত (যুবক) লোকদেরকে হত্যা করা হোক, নারী ও শিশুদেরকে বন্দী করা হোক এবং তাদের সম্পদগুলো ভাগ করা হোক।
ই.ফা. ৪৪৪৬, ই.সে. ৪৪৪৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খন্দকের যুদ্ধের পরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে। সা’দ (রাঃ) খন্দকের দিন আহত হন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর দেখাশোনার সুবিধার জন্য মসজিদে একটি তাঁবু স্থাপন করেন। নবী صلى الله عليه وسلم যুদ্ধ থেকে ফিরে অস্ত্র রেখে গোসল শেষ করার পর জিবরাঈল (আঃ) আসেন এবং জানান, তারা এখনো অস্ত্র রাখেননি। তিনি বনী কুরাইযার দিকে ইঙ্গিত করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাদের দিকে যান এবং তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। তারা নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশে দুর্গ থেকে নামে। পরে নবী صلى الله عليه وسلم তাদের বিচারের ভার সা’দ (রাঃ)-এর উপর দেন। সা’দ (রাঃ) যুদ্ধের উপযুক্ত পুরুষদের হত্যা, নারী-শিশুদের বন্দী এবং সম্পদ ভাগ করার রায় দেন। এই হাদিসে আনুগত্য, নেতৃত্ব এবং যুদ্ধকালীন বিচার একসাথে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আহত সাহাবির দেখাশোনার জন্য কাছে থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন।
- জিবরাঈল (আঃ)-এর নির্দেশ আসার পর নবী صلى الله عليه وسلم দ্রুত বনী কুরাইযার দিকে যান।
- কঠিন বিচারও নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের হাতে অর্পণ করা হতে পারে।
- সা’দ (রাঃ)-এর রায় যুদ্ধের বাস্তব অবস্থার সাথে যুক্ত ছিল।
