৩৩/২২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪৮৭ - সা’দ ইবন মু‘আযের ন্যায়বিচার
যে ব্যক্তি চুক্তি ভঙ্গ করে তাকে হত্যা করা বৈধ হওয়া এবং দুর্গের অধিবাসীদের কোন ন্যায়পরায়ণ ক্ষমতা প্রদত্ত বিচারকের নির্দেশে অবতরণ বৈধ হওয়া
সা’দ ইবন মু‘আযের ন্যায়বিচার ও আল্লাহর হুকুম
সহীহ মুসলিম : ৪৪৮৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৪৮৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةٌ - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، - عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ بْنَ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ، الْخُدْرِيَّ قَالَ نَزَلَ أَهْلُ قُرَيْظَةَ عَلَى حُكْمِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِلَى سَعْدٍ فَأَتَاهُ عَلَى حِمَارٍ فَلَمَّا دَنَا قَرِيبًا مِنَ الْمَسْجِدِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِلأَنْصَارِ «قُومُوا إِلَى سَيِّدِكُمْ - أَوْ خَيْرِكُمْ». ثُمَّ قَالَ " إِنَّ هَؤُلاَءِ نَزَلُوا عَلَى حُكْمِكَ». قَالَ تَقْتُلُ مُقَاتِلَتَهُمْ وَتَسْبِي ذُرِّيَّتَهُمْ . قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " قَضَيْتَ بِحُكْمِ اللَّهِ - وَرُبَّمَا قَالَ - قَضَيْتَ بِحُكْمِ الْمَلِكِ». وَلَمْ يَذْكُرِ ابْنُ الْمُثَنَّى وَرُبَّمَا قَالَ «قَضَيْتَ بِحُكْمِ الْمَلِكِ».
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বানূ কুরাইযার অবরুদ্ধ লোকেরা সা’দ ইবনু মু’আয (রাঃ)-এর নির্দেশ মেনে নিতে সম্মত হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সা’দ (রাঃ)-এর নিকট লোক পাঠালেন। সুতরাং তিনি একটি গাধার উপর আরোহণ করে আসলেন। যখন তিনি মসজিদের কাছাকাছি আসলেন তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের বললেনঃ তোমরা তোমাদের নেতার অথবা বললেন, উত্তম ব্যক্তির দিকে উঠে যাও।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ সমস্ত অবরুদ্ধ দুর্গবাসীরা তোমার নির্দেশ মান্য করতে সম্মত হয়েছে। তখন তিনি বললেন, তাদের মধ্যেকার যুদ্ধের উপযুক্ত (যুবক) লোকদেরকে হত্যা করা হোক এবং তাদের নারী ও শিশুদেরকে বন্দী করা হোক। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছো। বর্ণনাকারী কখনো বলেছেন, নবী (ﷺ) বলেন, তুমি রাজাধিরাজ আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছ। বর্ণনাকারী ইবনু মুসান্না (রহঃ) কোন কোন সময় তিনি বলেছেনঃ ‘তুমি রাজাধিরাজ আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছো’ কথাটি উল্লেখ করেননি।
ই.ফা. ৪৪৪৪, ই.সে. ৪৪৪৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বানু কুরাইযার অবরুদ্ধ লোকদের ঘটনা এসেছে। তারা সা’দ ইবন মু‘আয (রাঃ)-এর রায় মেনে নিতে রাজি হয়। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সা’দ (রাঃ)-কে ডেকে পাঠান। তিনি গাধায় চড়ে মসজিদের কাছে এলে নবী صلى الله عليه وسلم আনসারদের বলেন, তোমরা তোমাদের নেতা বা উত্তম ব্যক্তির দিকে উঠে যাও। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم জানান, দুর্গবাসীরা তাঁর নির্দেশ মানতে রাজি হয়েছে। সা’দ (রাঃ) যুদ্ধের উপযুক্ত পুরুষদের হত্যা এবং নারী-শিশুদের বন্দী করার রায় দেন। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তিনি আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছেন। এখানে মূল বিষয় হলো ন্যায়বিচার, নেতৃত্বের মর্যাদা এবং কঠিন সময়ে আল্লাহর বিধানের সামনে সমর্পণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন বিষয়ে বিচার করার সময় ব্যক্তিগত আবেগ নয়, আল্লাহর হুকুমকে সামনে রাখা জরুরি।
- নেতা বা সম্মানিত ব্যক্তির মর্যাদা দেওয়া নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল থেকে শেখা যায়।
- যুদ্ধকালীন বিচারও শৃঙ্খলা ও স্বীকৃত কর্তৃত্বের অধীনে হওয়া উচিত।
- সা’দ (রাঃ)-এর রায়কে নবী صلى الله عليه وسلم আল্লাহর হুকুমের সাথে মিল আছে বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
