৩৩/৩৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৫৩২ - আহযাব রাতে হুযাইফার আনুগত্য
আহযাবের (খন্দকের) যুদ্ধ
আহযাবের রাতে হুযাইফা (রাঃ)-এর সাহস ও আনুগত্য
সহীহ মুসলিম : ৪৫৩২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৫৩২
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ حُذَيْفَةَ فَقَالَ رَجُلٌ لَوْ أَدْرَكْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَاتَلْتُ مَعَهُ وَأَبْلَيْتُ فَقَالَ حُذَيْفَةُ أَنْتَ كُنْتَ تَفْعَلُ ذَلِكَ لَقَدْ رَأَيْتُنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَيْلَةَ الأَحْزَابِ وَأَخَذَتْنَا رِيحٌ شَدِيدَةٌ وَقُرٌّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَلاَ رَجُلٌ يَأْتِينِي بِخَبَرِ الْقَوْمِ جَعَلَهُ اللَّهُ مَعِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . فَسَكَتْنَا فَلَمْ يُجِبْهُ مِنَّا أَحَدٌ ثُمَّ قَالَ " أَلاَ رَجُلٌ يَأْتِينَا بِخَبَرِ الْقَوْمِ جَعَلَهُ اللَّهُ مَعِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . فَسَكَتْنَا فَلَمْ يُجِبْهُ مِنَّا أَحَدٌ ثُمَّ قَالَ " أَلاَ رَجُلٌ يَأْتِينَا بِخَبَرِ الْقَوْمِ جَعَلَهُ اللَّهُ مَعِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . فَسَكَتْنَا فَلَمْ يُجِبْهُ مِنَّا أَحَدٌ فَقَالَ «قُمْ يَا حُذَيْفَةُ فَأْتِنَا بِخَبَرِ الْقَوْمِ». فَلَمْ أَجِدْ بُدًّا إِذْ دَعَانِي بِاسْمِي أَنْ أَقُومَ قَالَ " اذْهَبْ فَأْتِنِي بِخَبَرِ الْقَوْمِ وَلاَ تَذْعَرْهُمْ عَلَىَّ " . فَلَمَّا وَلَّيْتُ مِنْ عِنْدِهِ جَعَلْتُ كَأَنَّمَا أَمْشِي فِي حَمَّامٍ حَتَّى أَتَيْتُهُمْ فَرَأَيْتُ أَبَا سُفْيَانَ يَصْلِي ظَهْرَهُ بِالنَّارِ فَوَضَعْتُ سَهْمًا فِي كَبِدِ الْقَوْسِ فَأَرَدْتُ أَنْ أَرْمِيَهُ فَذَكَرْتُ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ " وَلاَ تَذْعَرْهُمْ عَلَىَّ " . وَلَوْ رَمَيْتُهُ لأَصَبْتُهُ فَرَجَعْتُ وَأَنَا أَمْشِي فِي مِثْلِ الْحَمَّامِ فَلَمَّا أَتَيْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ بِخَبَرِ الْقَوْمِ وَفَرَغْتُ قُرِرْتُ فَأَلْبَسَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنْ فَضْلِ عَبَاءَةٍ كَانَتْ عَلَيْهِ يُصَلِّي فِيهَا فَلَمْ أَزَلْ نَائِمًا حَتَّى أَصْبَحْتُ فَلَمَّا أَصْبَحْتُ قَالَ «قُمْ يَا نَوْمَانُ».
ইব্রাহীম তাইমীর পিতা হতে বর্ণিতঃ
আমরা হুযাইফাহ্ (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল। “হায়, আমি যদি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে পেতাম, তবে তাঁর সাথে মিলে একত্রে যুদ্ধ করতাম এবং তাতে কোনরূপ পিছপা হতাম না।” হুযাইফাহ্ (রাঃ) বললেন, হয়তো তুমি তা করতে, কিন্তু আমি তো আহ্যাবের রাতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম (সে রাতে) প্রচণ্ড বায়ু ও তীব্র শীত আমাদের কাবু করে ফেলেছিল।এমনি সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ঘোষণা করলেন, “ওহে! এমন কেউ আছে কি যে আমাকে শত্রুর খবর এনে দেবে, আল্লাহ্ তা’আলা তাকে কেয়ামতের দিন আমার সঙ্গে (মর্যাদার আসনে) রাখবেন?” আমরা তখন চুপ করে রইলাম এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাঁর সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি। তিনি আবার বললেন, “ওহে! এমন কোন ব্যক্তি আছে কি যে আমাকে শত্রুপক্ষের খবর এনে দেবে, আল্লাহ্ তা’আলা তাকে কেয়ামতের দিন আমার সঙ্গে রাখবেন?” এবারও আমরা চুপ রইলাম আর আমাদের মধ্যে কেউ তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি। তিনি আবার ঘোষণা করলেন, “ওহে! এমন কেউ আছে কি যে আমাকে শত্রুপক্ষের খবর এনে দেবে, আল্লাহ্ তা’আলা কেয়ামতের দিন তাকে আমার সঙ্গে রাখবেন?” এবারও আমরা চুপ করে রইলাম এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি।এবার তিনি বললেন, হে হুযাইফাহ্! ওঠো এবং তুমি শত্রুদের খবরাদি আমাকে এনে দাও। রাসূল (ﷺ) যখন এবার আমার নাম ধরেই ডাক দিলেন, তাই উঠা ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না। এবার তিনি বললেন, “শত্রুপক্ষের খবর আমাকে এনে দাও, কিন্তু সাবধান, তাদের আমার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করো না।তারপর আমি যখন তাঁর নিকট থেকে প্রস্থান করলাম, তখন মনে হচ্ছিল আমি যেন উষ্ণ আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে চলেছি। এভাবে আমি তাদের (শত্রুপক্ষের) নিকটে পৌঁছে গেলাম। তখন আমি লক্ষ্য করলাম, আবূ সুফ্ইয়ান আগুনের দ্বারা তাঁর পিঠে ছেঁক দিচ্ছে। আমি তখন একটি তীর তুলে ধনুকে সংযোজন করলাম এবং তা নিক্ষেপ করতে মনস্থ করলাম। এমন সময় আমার মনে পড়ে গেল যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলে দিয়েছেন, “তাদেরকে আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলো না।” আমি যদি তখন তীর নিক্ষেপ করতাম তবে তীর নির্ঘাত লক্ষ্যভেদ করতো, অগত্যা আমি ফিরে আসলাম এবং ফিরে আসার সময়ও উষ্ণতার মধ্য দিয়ে অতিক্রমের মতো উষ্ণতা অনুভব করলাম।তারপর যখন ফিরে এলাম, তখন প্রতিপক্ষের খবর তাঁকে প্রদান করলাম। আমার দায়িত্ব পালন করে অবসর হতেই আবার আমি শীতের তীব্রতা অনুভব করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর অতিরিক্ত একটি কম্বল দিয়ে আমাকে আবৃত করে দিলেন, যা তিনি সাধারণতঃ সালাত আদায়ের সময় গায়ে দিতেন। তারপর আমি ভোর পর্যন্ত একটানা নিদ্রায় বিভোর রইলাম। যখন ভোর হল তখন তিনি বললেন, “হে গভীর নিদ্রামগ্ন! এখন উঠে পড়ো
ই.ফা. ৪৪৮৯, ই.সে. ৪৪৯১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৫৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আহযাবের রাতের একটি কঠিন ঘটনা এসেছে। প্রচণ্ড বাতাস ও তীব্র শীতে সাহাবীরা কষ্টে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বারবার জানতে চান, কে শত্রুপক্ষের খবর এনে দেবে। সবাই নীরব থাকেন। পরে তিনি হুযাইফা (রাঃ)-কে নাম ধরে ডাকেন। তখন তিনি উঠে যান। নবীজি তাঁকে নির্দেশ দেন, শত্রুদের খবর আনতে, কিন্তু তাদের উত্তেজিত না করতে। হুযাইফা (রাঃ) শত্রুদের কাছে গিয়ে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আবু সুফিয়ানকে তীর মারেননি, কারণ তিনি নবীজির নির্দেশ মনে রেখেছিলেন। ফিরে এসে খবর দেন। এই হাদিসে আহযাব যুদ্ধ, সাহস, দায়িত্ব পালন এবং নির্দেশ মানার শিক্ষা খুব স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন অবস্থায়ও নবীজির নির্দেশ মানা সাহাবীদের বড় বৈশিষ্ট্য ছিল।
- সাহস মানে শুধু আক্রমণ নয়; নির্দেশ মেনে সংযম রাখাও সাহস।
- দায়িত্ব দেওয়া হলে তা সতর্কতার সঙ্গে পালন করা দরকার।
- আল্লাহর সাহায্যে ভয় ও কষ্টের মাঝেও দায়িত্ব পালন সম্ভব হয়।
