৪৩/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৮২৯ - সোনার কাঁকনের স্বপ্ন ও দুই মিথ্যাবাদী
নাবী (ﷺ)-এর স্বপ্ন
সোনার কাঁকনের স্বপ্ন ও মিথ্যা নবীদের ইশারা
সহীহ মুসলিম : ৫৮২৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৮২৯
فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَسَأَلْتُ عَنْ قَوْلِ النَّبِيِّ، ﷺ " إِنَّكَ أَرَى الَّذِي أُرِيتُ فِيكَ مَا أُرِيتُ». فَأَخْبَرَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُ فِي يَدَىَّ سِوَارَيْنِ مِنْ ذَهَبٍ فَأَهَمَّنِي شَأْنُهُمَا فَأُوحِيَ إِلَىَّ فِي الْمَنَامِ أَنِ انْفُخْهُمَا فَنَفَخْتُهُمَا فَطَارَا فَأَوَّلْتُهُمَا كَذَّابَيْنِ يَخْرُجَانِ مِنْ بَعْدِي فَكَانَ أَحَدُهُمَا الْعَنْسِيَّ صَاحِبَ صَنْعَاءَ وَالآخَرُ مُسَيْلِمَةَ صَاحِبَ الْيَمَامَةِ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, পরে আমি নবী (ﷺ) -এর বক্তব্য- ‘আমি মনে করি যে, আমাকে (স্বপ্নে) যা দেখানো হয়েছে তা তোমার বিষয়েই দেখানো হয়েছে” সম্বন্ধে প্রশ্ন করলাম। তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) আমাকে বললেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ঘুমে থাকাবস্থায় আমার দু’হাতে দু’টি সোনার কাঁকন দেখতে পেলাম; সে দু’টির অবস্থা আমাকে মহাদুশ্চিন্তায় ফেলল। স্বপ্নে আমার নিকট ওহী পাঠানো হলো যে, ও দু’টিকে ফুঁ দিন। আমি সে দু’টিকে ফুঁ দিলে সে দু’টি ভেসে গেল।তখন আমি স্বপ্নে দেখা সে বালা দু’টির ব্যাখ্যা করলাম- দু’জন নুবূওয়াতের মিথ্যা দাবীদার, যারা আমার পরে আত্মপ্রকাশ করবে। (বর্ণনাকারী বলেন), তাদের উভয়ের একজন হলো আল-‘আনসী সান‘আ-বাসীদের নেতা এবং অপরজন হলো মুসাইলামাহ্-ইয়ামামাবাসীদের সরদার।
ই.ফা. ৫৭৩৬, ই.সে. ৫৭৬৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৮২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি স্বপ্নের ব্যাখ্যা এসেছে। তিনি ঘুমে দেখলেন, তাঁর দুই হাতে দুইটি সোনার কাঁকন। বিষয়টি তাঁকে চিন্তায় ফেলে। স্বপ্নেই ওহীর মাধ্যমে তাঁকে বলা হলো, কাঁকন দুটির ওপর ফুঁ দিতে। তিনি ফুঁ দিলে সেগুলো ভেসে যায়। এরপর তিনি এর ব্যাখ্যা করেন—এ দুইটি হলো দুইজন মিথ্যা নবুওয়াতের দাবিদার, যারা তাঁর পরে প্রকাশ পাবে। বর্ণনায় বলা হয়েছে, একজন হলো সানআবাসীদের নেতা আল-আনসী, আর অন্যজন ইয়ামামাবাসীদের নেতা মুসায়লিমা। এই হাদিসে স্বপ্ন, ওহী, মিথ্যা দাবি এবং সত্য নবুওয়াতের মর্যাদা স্পষ্ট হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর স্বপ্ন ওহীর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
- মিথ্যা নবুওয়াতের দাবি বড় ফিতনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
- আল্লাহ নবীজীকে ভবিষ্যৎ কিছু ঘটনার ইশারা দিয়েছেন।
- সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝে চলা মুমিনের দায়িত্ব।
