৪৫/৩৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬২৯৮ - বাইআতে রিদওয়ানের সাহাবীদের মর্যাদা
বাই‘আতে রিযওয়ানে অংশগ্রহনকারী আসহাবে শাজারাহ (রাঃ)-এর ফযিলত
বাইআতে রিদওয়ান ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুসংবাদ
সহীহ মুসলিম : ৬২৯৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬২৯৮
حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ أَخْبَرَتْنِي أُمُّ مُبَشِّرٍ، أَنَّهَا سَمِعَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عِنْدَ حَفْصَةَ " لاَ يَدْخُلُ النَّارَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ أَحَدٌ . الَّذِينَ بَايَعُوا تَحْتَهَا " . قَالَتْ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَانْتَهَرَهَا فَقَالَتْ حَفْصَةُ { وَإِنْ مِنْكُمْ إِلاَّ وَارِدُهَا} فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " قَدْ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا}
উম্মু মুবাশশার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাকে উম্মু মুবাশশার (রাঃ) অবহিত করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে হাফসাহ (রাঃ) এর নিকট বলতে শুনেছেন, আল্লাহ চান তো বৃক্ষের নীচে বসে বাই’আতে রিযওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের কেউই জাহান্নামে ঢুকবে না। তিনি (হাফসাহ) বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! (কেন যাবে না) তখন তিনি তাঁকে নিন্দাবাদ করলেন। হাফসাহ (রাঃ) বলেছিলেন আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই যে তা অতিক্রম না করবে অর্থাৎ- পুলসিরাত।তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তো এও বলেছেন; যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে আমি তাদের মুক্তি দিব এবং যালিমদেরকে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় রেখে দিব। (সূরা মারইয়াম ১৯: ৭১-৭২)
ই.ফা.৬১৭৯, ই.সে. ৬২২৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬২৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মু মুবাশ্শার (রাঃ) জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) হাফসা (রাঃ)-এর কাছে বলেছেন, আল্লাহ চাইলে বৃক্ষের নিচে বাইআতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের কেউ জাহান্নামে ঢুকবে না। হাফসা (রাঃ) তখন সূরা মারইয়ামের আয়াত উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে সবাই তা অতিক্রম করবে। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) এর উত্তরে আরেক আয়াত উল্লেখ করেন—আল্লাহ তাকওয়াবানদের মুক্তি দেবেন এবং জালিমদের সেখানে রেখে দেবেন। এখানে বাইআতে রিদওয়ানের সাহাবীদের মর্যাদা, কুরআনের আয়াত বুঝতে পূর্ণ বক্তব্য দেখা এবং তাকওয়ার গুরুত্ব একসাথে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাইআতে রিদওয়ানে অংশ নেওয়া সাহাবীদের বিশেষ মর্যাদা ছিল।
- কুরআনের আয়াত বুঝতে সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলো একসাথে দেখা দরকার।
- তাকওয়াবানদের মুক্তির কথা কুরআনের ভাষায় এসেছে।
- ধর্মীয় প্রশ্নে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) কুরআনের মাধ্যমেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
