৫১/০. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৯২৯ - মুনাফিকদের জান্নাত থেকে বঞ্চনার ভয়
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত
মুনাফিকদের জান্নাত থেকে বঞ্চনার সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ৬৯২৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৯২৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ، قَالَ قُلْنَا لِعَمَّارٍ أَرَأَيْتَ قِتَالَكُمْ أَرَأْيًا رَأَيْتُمُوهُ فَإِنَّ الرَّأْىَ يُخْطِئُ وَيُصِيبُ أَوْ عَهْدًا عَهِدَهُ إِلَيْكُمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ مَا عَهِدَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ شَيْئًا لَمْ يَعْهَدْهُ إِلَى النَّاسِ كَافَّةً . وَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " إِنَّ فِي أُمَّتِي " . قَالَ شُعْبَةُ وَأَحْسِبُهُ قَالَ حَدَّثَنِي حُذَيْفَةُ. وَقَالَ غُنْدَرٌ أُرَاهُ قَالَ «فِي أُمَّتِي اثْنَا عَشَرَ مُنَافِقًا لاَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلاَ يَجِدُونَ رِيحَهَا حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ ثَمَانِيَةٌ مِنْهُمْ تَكْفِيكَهُمُ الدُّبَيْلَةُ سِرَاجٌ مِنَ النَّارِ يَظْهَرُ فِي أَكْتَافِهِمْ حَتَّى يَنْجُمَ مِنْ صُدُورِهِمْ» .
কায়স ইবনু 'উবাদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা ‘আম্মার (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, আপনাদের এ সংগ্রামের ব্যাপারে বলুন তো, তা কি আপনাদের স্বীয় মতের ভিত্তিতে? যা ভুলও হতে পারে, সঠিকও হতে পারে। কিংবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক্ষেত্রে বিশেষভাবে আপনাদের আদেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বসাধারণকে যে আদেশ দেননি, এমন কিছু তিনি বিশেষভাবে আমাদেরকেও বলেননি।তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে বর্ণনাকারী শু‘বাহ্ (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মাতের মাঝে বারোজন মুনাফিক হবে। তাদের জান্নাতে ঢুকা এবং জান্নাতের ঘ্রাণও পাওয়া তেমন অসম্ভব যেমন সূঁচের ছিদ্রপথে উষ্ট্রের ঢুকা অসম্ভব। তাদের মাঝে আটজনের (ধ্বংসের) জন্য ‘দুবাইলাহ্’ যথেষ্ট হবে। ‘দুবাইলাহ্’ হলো অগ্নিশিখা, যা কাঁধের মাঝে প্রকাশ পেয়ে অন্তঃকরণকে ছেয়ে ফেলবে।
ই.ফা. ৬৭৭৯, ই.সে. ৬৮৩৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৯২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ‘আম্মার (রাঃ)-কে তাঁদের সংগ্রাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। প্রশ্নকারীরা জানতে চান, এটি কি নিজস্ব মত ছিল, যা ভুলও হতে পারে আবার ঠিকও হতে পারে, নাকি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ আদেশ ছিল। ‘আম্মার (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) সাধারণ মানুষকে যা বলেননি, এমন কোনো আলাদা আদেশ তাঁদের দেননি। এরপর বর্ণনায় বারোজন মুনাফিকের কথা আসে। তাদের জান্নাতে ঢোকা এবং জান্নাতের ঘ্রাণ পাওয়া অসম্ভব বলা হয়েছে, যেমন সূঁচের ছিদ্র দিয়ে উট ঢোকা অসম্ভব। আটজনের জন্য ‘দুবাইলাহ’ যথেষ্ট হবে। এখানে মুনাফিকের পরিণতি, অন্তরের ভণ্ডামি এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে অতিরিক্ত দাবি না করার শিক্ষা খুব পরিষ্কার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজস্ব সিদ্ধান্তকে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ আদেশ বলা যাবে না।
- মুনাফিকি মানুষকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।
- জান্নাতের ঘ্রাণ থেকে বঞ্চনার কথা কঠিন সতর্কতা হিসেবে এসেছে।
- সত্য কথা বলতে সাহাবিরা খুব সতর্ক ছিলেন।
