৪/২১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮২৫ - আবু বকরকে ইমাম করার বিষয়ে আয়িশার আশঙ্কা
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সলাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে।
আবু বকর (রাঃ)-এর ইমামতি নিয়ে আয়িশা (রাঃ)-এর আশঙ্কা
সহীহ মুসলিম : ৮২৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৮২৫
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْلَقَدْ رَاجَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فِي ذَلِكَ وَمَا حَمَلَنِي عَلَى كَثْرَةِ مُرَاجَعَتِهِ إِلاَّ أَنَّهُ لَمْ يَقَعْ فِي قَلْبِي أَنْ يُحِبَّ النَّاسُ بَعْدَهُ رَجُلاً قَامَ مَقَامَهُ أَبَدًا وَإِلاَّ أَنِّي كُنْتُ أَرَى أَنَّهُ لَنْ يَقُومَ مَقَامَهُ أَحَدٌ إِلاَّ تَشَاءَمَ النَّاسُ بِهِ فَأَرَدْتُ أَنْ يَعْدِلَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ أَبِي بَكْرٍ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
[রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসুস্থকালীন অনুপস্থিতিতে আবূ বাক্র(রাঃ) –কে ইমাম নিযুক্ত করার ব্যাপারে] আমি রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বারবার কথা কাটাকাটি করেছি। কোন লোক অধিকাংশ সময় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হোক এ উদ্দেশে আমি কথা কাটাকাটি করিনি। আমার ধারণা ছিল যে, যে ব্যক্তি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবে তাকে লোকেরা ভালবাসবে না এবং তাকে তারা অশুভ কুলক্ষণ বলে মনে করবে। সুতরাং আমি চেয়েছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাক্র(রাঃ) –কে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা থেকে যেন বিরত থাকেন।
ই.ফা.৮২২, ই.সে.৮৩৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم যখন অসুস্থ অবস্থায় আবু বকর (রাঃ)-কে লোকদের ইমামতি করার নির্দেশ দেন, তখন আয়িশা (রাঃ) বারবার কথা বলেন। তিনি জানান, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না যে অন্য কেউ রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর স্থলাভিষিক্ত হোক। বরং তাঁর মনে ছিল, নবী صلى الله عليه وسلم-এর পরে যে ব্যক্তি তাঁর জায়গায় দাঁড়াবে, লোকেরা হয়তো তাকে ভালোভাবে নেবে না এবং অশুভ মনে করতে পারে। তাই তিনি চেয়েছিলেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم আবু বকর (রাঃ)-কে এ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিন। এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ)-এর মনের আশঙ্কা, আবু বকর (রাঃ)-এর প্রতি স্নেহ এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর স্থানের ব্যাপারে সাহাবীদের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। তাই এই হাদিসে বাহ্যিক কথার পেছনে আয়িশা (রাঃ)-এর মনের কারণও পরিষ্কারভাবে জানা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আয়িশা (রাঃ) নিজের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন।
- তিনি আবু বকর (রাঃ)-এর প্রতি মানুষের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে আশঙ্কা করেছিলেন।
- এই বর্ণনায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর স্থানের মর্যাদা নিয়ে সাহাবীদের অনুভূতি বোঝা যায়।
- দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি সালাতের ইমামতির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
