৪/৪৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৯৯৭ - নবীজির সালাতের পদ্ধতি
সলাতের সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য - যা দিয়ে সলাত শুরু এবং শেষ করতে হবে; রুকু‘র বৈশিষ্ট এবং এর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা; সাজদার বৈশিষ্ট্য ও এর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা; চার রাক‘আত বিশিষ্ট সলাতে প্রতি দু’রাক‘আত অন্তর তাশাহ্হুদ পাঠ; দু’সাজদার মাঝখানে বসা এবং প্রথম বৈঠকের বর্ণনা।
নবীজির সালাতের পদ্ধতি: তাকবির থেকে সালাম পর্যন্ত শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৯৯৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৯৯৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، - يَعْنِي الأَحْمَرَ - عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالَ أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنْ عَائِشَةَ،قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَسْتَفْتِحُ الصَّلاَةَ بِالتَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةَ بِـ ﴾ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ﴿ وَكَانَ إِذَا رَكَعَ لَمْ يُشْخِصْ رَأْسَهُ وَلَمْ يُصَوِّبْهُ وَلِكَنْ بَيْنَ ذَلِكَ وَكَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَائِمًا وَكَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السَّجْدَةِ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ جَالِسًا وَكَانَ يَقُولُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ التَّحِيَّةَ وَكَانَ يَفْرِشُ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَيَنْصِبُ رِجْلَهُ الْيُمْنَى وَكَانَ يَنْهَى عَنْ عُقْبَةِ الشَّيْطَانِ وَيَنْهَى أَنْ يَفْتَرِشَ الرَّجُلُ ذِرَاعَيْهِ افْتِرَاشَ السَّبُعِ وَكَانَ يَخْتِمُ الصَّلاَةَ بِالتَّسْلِيمِ .وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ نُمَيْرٍ عَنْ أَبِي خَالِدٍ وَكَانَ يَنْهَى عَنْ عَقِبِ الشَّيْطَانِ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবির (আল্ল-হু আকবার) বলে সালাত শুরু করতেন এবং সূরা আল ফা-তিহাহ্ দিয়ে কিরাআত পাঠ শুরু করতেন। তিনি যখন রুকূ করতেন, ঘাড় থেকে মাথা নীচুও করতেন না, উপরেও উঁচু করে রাখতেন না বরং একই সমতলে রাখতেন। তিনি যখন রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন, সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে সিজদা করতেন না। তিনি (প্রথম) সিজদা থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত (দ্বিতীয়) সিজদায় যেতেন না।তিনি প্রতি দু’রাক’আত অন্তর “আত্তাহিয়্যাতু” পাঠ করতেন। তিনি বসার সময় বাম পা বিছিয়ে দিতেন এবং ডান পা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। তিনি শয়তানের বসা থেকে নিষেধ করতেন। তিনি পুরুষ লোকেদেরকে হিংস্র জন্তুর ন্যায় দু’হাত মাটিতে ছড়িয়ে দিতে নিষেধ করতেন। তিনি সালামের মাধ্যমে সালাতের সমাপ্তি ঘোষণা করতেন।ইবনু নুমায়র থেকে আবূ খালিদ-এর সূত্রে বর্ণিত আছে : তিনি শয়তানের মতো [১০৬] বসতে নিষেধ করতেন।
১০৬ - দু’হাঁটু দাঁড় করিয়ে দু’উরু বুকের সঙ্গে লাগলে পাছার উপর ভর দিয়ে উপবেশন করাকে শয়তানের বৈঠক বলা হয়। সালাত রত অবস্থায় তাশাহ্হুদ পাঠকালে এরূপ বসতে নিষেধ করা হয়।ই.ফা. ৯৯১,ই.সে. ১০০২
সহীহ মুসলিম হাদিস ৯৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাতের পদ্ধতি ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি তাকবির দিয়ে সালাত শুরু করতেন এবং সূরা আল-ফাতিহা দিয়ে কিরাআত শুরু করতেন। রুকুতে মাথা অতিরিক্ত নিচু করতেন না, আবার বেশি উঁচুও রাখতেন না; বরং মাঝামাঝি সমতলে রাখতেন। রুকু থেকে উঠে সোজা না হয়ে সিজদায় যেতেন না। প্রথম সিজদা থেকে উঠে সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত দ্বিতীয় সিজদায় যেতেন না। প্রতি দুই রাকাত অন্তর আত্তাহিয়্যাতু পড়তেন। বসার সময় বাম পা বিছিয়ে ডান পা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। তিনি শয়তানের মতো বসা এবং হিংস্র জন্তুর মতো বাহু বিছানো থেকে নিষেধ করেছেন। শেষে সালাম দিয়ে সালাত শেষ করতেন। এটি “নবীজির নামাজের পদ্ধতি” বা “সালাতের পূর্ণ নিয়ম” খোঁজার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হাদিস।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাকবির দিয়ে সালাত শুরু করতেন এবং সালাম দিয়ে শেষ করতেন।
- রুকু ও সিজদার মাঝে সোজা হয়ে দাঁড়ানো ও বসার শিক্ষা এসেছে।
- সালাতে বসার নির্দিষ্ট ভঙ্গি এবং আত্তাহিয়্যাতু পাঠের বর্ণনা আছে।
- সালাতে শয়তানের মতো বসা ও হিংস্র জন্তুর মতো বাহু বিছানো থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
