০/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩ - ভুল লেখা মুছে দেওয়ার শিক্ষা
য‘ঈফ রাবীর হাদীস বর্ণনা করা নিষিদ্ধ এবং হাদীস সংগ্রহের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা
ভুল বর্ণনা মুছে ফেলা: জ্ঞান রক্ষার সতর্ক পথ
সহীহ মুসলিম : ২৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩
حَدَّثَنَا عَمْرُو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حُجَيْرٍ، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ أُتِيَ ابْنُ عَبَّاسٍ بِكِتَابٍ فِيهِ قَضَاءُ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فَمَحَاهُ إِلَّا قَدْرَ. وَأَشَارَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ بِذِرَاعِهِ.
তাউস (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট একখানা কিতাব আনা হলো। এতে লিপিবদ্ধ ছিল ‘আলী (রাঃ)-এর কতক বিচারের রায়। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তা থেকে সামান্যতম রেখে বাকীটা নষ্ট করে দিলেন। বর্ণনাকারী সুফইয়ান ইবনু ‘উয়াইনাহ (রহঃ) নিজের হাতের দিকে ইশারা করে পরিমাণ দেখালেন (অর্থাৎ এক হাত পরিমাণ বহাল রেখেছেন)।
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় দেখা যায়, ইবনু ‘আব্বাস (রাযিঃ)-এর কাছে একটি কিতাব আনা হলো, যেখানে ‘আলী (রাযিঃ)-এর কিছু বিচারিক রায় লেখা ছিল। তিনি তা থেকে সামান্য অংশ রেখে বাকি অংশ মুছে দিলেন। বর্ণনাকারী সুফইয়ান ইবনু ‘উয়াইনাহ হাত দিয়ে সেই সামান্য পরিমাণ দেখিয়েছেন। এখানে সরাসরি শিক্ষা হলো, দীনী জ্ঞান ও বিচারসংক্রান্ত লেখা যাচাই ছাড়া রেখে দেওয়া নিরাপদ নয়। “ভুল বর্ণনা মুছে ফেলা”, “হাদীস ও ফায়সালা যাচাই” এবং “ইলম সংরক্ষণ” এই বর্ণনার প্রধান বিষয়। এটি আমাদের জানায়, ভুল তথ্য থাকলে তা শুধু না মানলেই শেষ নয়; বরং ক্ষতি ঠেকাতে তা সরিয়ে দেওয়াও জরুরি হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভুল বা সন্দেহপূর্ণ লেখা যাচাই করা দীনী দায়িত্বের অংশ।
- প্রসিদ্ধ ব্যক্তির নামে লেখা থাকলেও সব কথা গ্রহণযোগ্য নয়।
- জ্ঞান রক্ষায় ভুল তথ্য সরিয়ে দেওয়ার সতর্কতা দরকার।
