০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৭ - সানাদ জিজ্ঞাসার কারণ
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
সানাদ জিজ্ঞাসা: হাদীস গ্রহণে সূত্র যাচাইয়ের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ২৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৭
حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ لَمْ يَكُونُوا يَسْأَلُونَ عَنِ الْإِسْنَادِ، فَلَمَّا وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ قَالُوا سَمُّوا لَنَا رِجَالَكُمْ فَيُنْظُرُ إِلَى أَهْلِ السُّنَّةِ فَيُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ وَيُنْظُرُ إِلَى أَهْلِ الْبِدَعِ فَلَا يُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ.
ইবনু সীরীন (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
এমন এক সময় ছিল যখন লোকেরা সানাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতো না। কিন্তু পরে যখন ফিতনা (হাদীসের নামে মিথ্যা কথার আমদানী) দেখা দিল তখন লোকেরা হাদীস বর্ণনাকারীদেরকে বলতো, তোমরা যাদের নিকট থেকে হাদীস গ্রহণ করেছ, আমাদের কাছে তাদের নাম বল। তারা এ কথা এ কারণে জানতে চাইত, যাতে দেখা যায় তাঁরা আহলে সুন্নাত কিনা? যদি তাঁরা এ সম্প্রদায়ের হয় তাহলে তাঁদের হাদীস গ্রহণযোগ্য হবে। আর যদি দেখা যায় তারা বিদআতী তাহলে তাদের হাদীস গ্রহণ করা হবে না।
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সানাদ যাচাইয়ের কারণ স্পষ্ট করা হয়েছে। আগে লোকেরা সানাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না। কিন্তু যখন ফিতনা দেখা দিল, অর্থাৎ হাদীসের নামে মিথ্যা কথা ছড়াতে লাগল, তখন তারা বলত: তোমাদের রাবীদের নাম বলো। উদ্দেশ্য ছিল, বর্ণনাকারীরা আহলে সুন্নাতের লোক কি না তা দেখা। যদি তারা গ্রহণযোগ্য হয়, তাদের হাদীস নেওয়া হতো; আর বিদ‘আতী হলে তাদের বর্ণনা নেওয়া হতো না। এখানে “সানাদ কী”, “হাদীসের সূত্র যাচাই” এবং “বিদআতী রাবী থেকে সতর্কতা” প্রধান বিষয়। এই বর্ণনা শেখায়, দীনী কথার উৎস জানা জ্ঞানের নিরাপত্তার জন্য জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফিতনার সময় হাদীসের সানাদ যাচাই বেশি জরুরি হয়ে ওঠে।
- বর্ণনাকারীর পরিচয় জানা হাদীস গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
- বিশ্বাস ও পথের দিক থেকে সন্দেহজনক সূত্র থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
