০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৬ - নাবীয পাত্র ও সহিষ্ণুতা
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
আবদুল কায়সের শিক্ষা: ঈমান, পাত্রের নিষেধ ও ধৈর্য-নম্রতা
সহীহ মুসলিম : ২৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৬
حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، وَهِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، وَحَدَّثَنَا فُضَيْلٌ، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ وَحَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ دِينٌ فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ.
মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
নিশ্চয়ই এ ইলম হলো দীন। কাজেই কার কাছ থেকে তোমরা দীন গ্রহণ করছো তা যাচাই করে নাও। (অর্থাৎ সত্যবাদী, দীনদার এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছ থেকে ইলমে দীন শিক্ষা করা প্রয়োজন।)
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে আবদুল কায়স গোত্রের লোকেরা রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে জানায় যে তারা সব সময় আসতে পারে না। তাই তারা এমন নির্দেশনা চায়, যা নিজেরা পালন করবে এবং অন্যদেরও বলবে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাদের আল্লাহর ইবাদত, শিরক বর্জন, সালাত কায়েম, যাকাত আদায়, রমজানের সাওম এবং গনীমতের খুমুস দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর দুব্বা, হানতাম, মুযাফফত ও নাকীর পাত্রের ব্যবহার থেকে নিষেধ করেন। নাকীর সম্পর্কে তারা জিজ্ঞেস করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) তার ধরন বুঝিয়ে দেন এবং এমন পানীয়ের ক্ষতির উদাহরণ আসে, যা নেশার কারণে ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। শেষে আশাজ্জ আবদুল কায়সকে বলা হয়, তার মধ্যে দুটি গুণ আছে যা আল্লাহ ভালোবাসেন—সহিষ্ণুতা ও ধীরতা-নম্রতা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের শিক্ষা নিজে পালন করা এবং অন্যদের জানানো গুরুত্বপূর্ণ।
- শিরক বর্জন, সালাত, যাকাত, সাওম ও খুমুসের নির্দেশ এসেছে।
- নেশার দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন ব্যবস্থার বিষয়ে সতর্কতা শেখানো হয়েছে।
- সহিষ্ণুতা ও ধীরতা-নম্রতা আল্লাহর পছন্দনীয় গুণ।
