৩১/১৩. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৮৮ - মুযাবানা ও মুহাকালা নিষেধের শিক্ষা
মুযাবানা [১] এবং মুহাকালা [২]
[১] কারো মতে, খোসাবিহীন এক প্রকার যব যা হিজাযে উৎপন্ন হয়। মুযাবানা হচ্ছে সুপক্ব খুর্মার বিনিময়ে তাজা খেজুরকে আন্দাজ করে ক্রয় করা।[২] মুহাকালা হচ্ছে শুষ্ক শস্যের বিনিময়ে ক্ষেতের তাজা শস্য ক্রয় করা।
মুযাবানা কী এবং কেন তা নিষেধ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৮৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২৮৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْمُزَابَنَةِ وَالْمُزَابَنَةُ بَيْعُ الثَّمَرِ بِالتَّمْرِ كَيْلًا وَبَيْعُ الْكَرْمِ بِالزَّبِيبِ كَيْلًا.
আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিষেধ করেছেন মুযাবানা হতে। মুযাবানা হচ্ছে তাজা খেজুর (যা বৃক্ষে ঝুলন্ত রয়েছে)-কে অনুমান করে সুপক্ব খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় করা। এবং তাজা আঙ্গুর ফলকে [লতাতে ঝুলন্তাবস্থায়] আন্দাজ করে শুষ্ক আঙ্গুর-এর বিনিময়ে বিক্রয় করা।
(বুখারী ২১৭১, মুসলিম ১৫৪২)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা ও মুহাকালা থেকে নিষেধ করেছেন। বর্ণনায় মুযাবানার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। মুযাবানা হলো গাছে থাকা তাজা খেজুরকে আন্দাজ করে মাপা শুকনা খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করা। একইভাবে লতাতে ঝুলন্ত তাজা আঙ্গুরকে আন্দাজ করে শুকনা আঙ্গুরের বিনিময়ে বিক্রি করাও এর অন্তর্ভুক্ত। এখানে মূল সমস্যা হলো আন্দাজ, অনিশ্চয়তা এবং একই ধরনের ফলের বিনিময়ে পরিমাণে অস্পষ্টতা। ইসলামে ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান লেনদেনকে পরিষ্কার রাখতে চায়। যখন গাছের ফল এখনো ঝুলছে এবং তার সঠিক পরিমাণ জানা নেই, আর তা শুকনা ফলের নির্দিষ্ট পরিমাণের বিনিময়ে বিক্রি হয়, তখন এক পক্ষের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই মুযাবানা নিষেধের শিক্ষা হলো, ফল বিক্রিতে অনুমানভিত্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ বিনিময় এড়িয়ে চলা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুযাবানা হলো আন্দাজে ঝুলন্ত ফলের বিনিময়।
- তাজা খেজুর ও শুকনা খেজুরের বিনিময়ে পরিমাণ স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
- অস্পষ্ট ও ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
- আঙ্গুরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিধান প্রযোজ্য হয়েছে।
