৩১/১৩. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৮৯ - মুযাবানা ও মুহাকালার সহজ ব্যাখ্যা
মুযাবানা [১] এবং মুহাকালা [২]
[১] কারো মতে, খোসাবিহীন এক প্রকার যব যা হিজাযে উৎপন্ন হয়। মুযাবানা হচ্ছে সুপক্ব খুর্মার বিনিময়ে তাজা খেজুরকে আন্দাজ করে ক্রয় করা।[২] মুহাকালা হচ্ছে শুষ্ক শস্যের বিনিময়ে ক্ষেতের তাজা শস্য ক্রয় করা।
মুযাবানা ও মুহাকালা নিষেধের মূল শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৮৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২৮৯
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ مَوْلَى ابْنِ أَبِي أَحْمَدَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْمُزَابَنَةِ وَالْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةُ اشْتِرَاءُ الثَّمَرِ بِالتَّمْرِ فِي رُءُوسِ النَّخْلِ وَالْمُحَاقَلَةُ كِرَاءُ الْأَرْضِ بِالْحِنْطَةِ.
আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিষেধ করেছেন মুযাবানা এবং মুহাকালা হতে। মুযাবানা হচ্ছে সুপক্ব খুর্মার বিনিময়ে তাজা খেজুরকে আন্দাজ করে ক্রয় করা যা বৃক্ষচূড়ায় (ঝুলন্ত) রয়েছে। আর মুহাকালা হচ্ছে গমের বিনিময়ে ভূমি ভাড়াতে (ভাড়া) দেওয়া।
(বুখারী ২১৮৬, মুসলিম ১৫৪৬)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা ও মুহাকালা থেকে নিষেধ করেছেন। বর্ণনায় মুযাবানা বলা হয়েছে গাছে থাকা তাজা খেজুরকে আন্দাজ করে শুকনা খেজুরের বিনিময়ে কেনা। আর মুহাকালা বলা হয়েছে গমের বিনিময়ে জমি ভাড়া দেওয়া। এই দুই ধরনের লেনদেনে মূল সমস্যা হলো, একদিকে পরিমাণ বা ফলাফল ঠিকভাবে জানা নেই, অন্যদিকে বিনিময়ের জিনিসও একই ধরনের খাদ্য বা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এতে অন্যায় লাভ বা ক্ষতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই ইসলামে ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান স্পষ্টতা, নগদতা এবং ন্যায্যতার দিকে আহ্বান করে। এই হাদিস আমাদের শেখায়, জমি, ফল বা খাদ্যদ্রব্যের লেনদেনে আন্দাজের ওপর নির্ভর না করে পরিষ্কার শর্তে লেনদেন করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুযাবানা গাছে থাকা ফলের আন্দাজি বিনিময়।
- মুহাকালা গমের বিনিময়ে জমি ভাড়ার একটি নিষিদ্ধ রূপ।
- অস্পষ্ট লেনদেন মানুষের মধ্যে ক্ষতি ও বিরোধ বাড়াতে পারে।
- লেনদেনে পরিমাণ ও শর্ত পরিষ্কার রাখা জরুরি।
