৪১/১১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫৩৮ - চাকরের চুরি ও মালিকের মাল
যে অবস্থায় হাত কাটা হবে না
চাকর মালিকের মাল চুরি করলে: উমার (রা)-এর বিচার
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৫৩৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৫৩৮
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَأَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْحَضْرَمِيِّ جَاءَ بِغُلَامٍ لَهُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ لَهُ اقْطَعْ يَدَ غُلَامِي هَذَا فَإِنَّهُ سَرَقَ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ مَاذَا سَرَقَ فَقَالَ سَرَقَ مِرْآةً لِامْرَأَتِي ثَمَنُهَا سِتُّونَ دِرْهَمًا فَقَالَ عُمَرُ أَرْسِلْهُ فَلَيْسَ عَلَيْهِ قَطْعٌ خَادِمُكُمْ سَرَقَ مَتَاعَكُمْ
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইব্নু আমর ইব্নু হাযরামী (রাঃ) স্বীয় দাসকে উমর (রাঃ)-এর নিকট নিয়ে এসে বলল, আপনি আমার এই দাসের হাত কেটে ফেলুন। কেননা সে চুরি করেছে। উমর (রাঃ) বললেন, কি চুরি করেছে? তিনি বললেন, সে আমার স্ত্রীর আয়না চুরি করেছে, যার মূল্য হবে ষাট দিরহাম। উমর (রাঃ) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও, তার হাত কাটা যাবে না। সে তোমার চাকর ছিল, তোমার মাল চুরি করেছে। [১]
[১] ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) এবং সকলের সম্মিলিত মত এটাই। কিন্তু মালিক (রহঃ)-এর মতে যদি স্বামীর দাস তার স্ত্রীর মাল চুরি করে তবে তার হাত কাটা হবে।(হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৫৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইব্নু আমর ইব্নু হাযরামী (রা) তাঁর দাসকে উমার (রা)-এর কাছে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, দাসটি চুরি করেছে, তাই তার হাত কাটা হোক। উমার (রা) জানতে চান, সে কী চুরি করেছে। তিনি বলেন, সে তাঁর স্ত্রীর আয়না চুরি করেছে, যার মূল্য ষাট দিরহাম। মূল্য বেশি হলেও উমার (রা) দাসকে ছেড়ে দিতে বলেন এবং জানান, সে তাদের চাকর; সে তাদেরই মাল চুরি করেছে, তাই তার হাত কাটা হবে না। এই বর্ণনায় চুরির মূল্য যথেষ্ট হলেও সম্পর্ক, প্রবেশাধিকার এবং চাকরের অবস্থান বিবেচিত হয়েছে। তাই চুরির শাস্তিতে শুধু মূল্য নয়, মালটি কোথা থেকে এবং কার অবস্থান থেকে নেওয়া হয়েছে—সেটিও বিচার্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চাকর বা দাসের মালিকের মাল নেওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা বিধান এসেছে।
- চুরি করা জিনিসের মূল্য বেশি হলেও সব ক্ষেত্রে একই শাস্তি নয়।
- উমার (রা) সম্পর্ক ও ঘরের অবস্থান বিবেচনা করেছেন।
- বিচারে শুধু মাল নয়, মাল নেওয়ার অবস্থা ও সম্পর্কও দেখা হয়।
