২০/২৪. অধ্যায়ঃ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৭৭৬ - মুহরিমের শিকার, পঙ্গপাল ও মাছ

কোন ধরনের শিকারকৃত বস্তু মুহরিম খেতে পারে

মুহরিমের শিকার বিধান: গোশত, পঙ্গপাল ও মাছের আলোচনা

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৭৭৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ كَعْبَ الْأَحْبَارِ أَقْبَلَ مِنْ الشَّامِ فِي رَكْبٍ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِبَعْضِ الطَّرِيقِ وَجَدُوا لَحْمَ صَيْدٍ فَأَفْتَاهُمْ كَعْبٌ بِأَكْلِهِ قَالَ فَلَمَّا قَدِمُوا عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِالْمَدِينَةِ ذَكَرُوا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ مَنْ أَفْتَاكُمْ بِهَذَا قَالُوا كَعْبٌ قَالَ فَإِنِّي قَدْ أَمَّرْتُهُ عَلَيْكُمْ حَتَّى تَرْجِعُوا ثُمَّ لَمَّا كَانُوا بِبَعْضِ طَرِيقِ مَكَّةَ مَرَّتْ بِهِمْ رِجْلٌ مِنْ جَرَادٍ فَأَفْتَاهُمْ كَعْبٌ أَنْ يَأْخُذُوهُ فَيَأْكُلُوهُ فَلَمَّا قَدِمُوا عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ذَكَرُوا لَهُ ذَلِكَ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى أَنْ تُفْتِيَهُمْ بِهَذَا قَالَ هُوَ مِنْ صَيْدِ الْبَحْرِ قَالَ وَمَا يُدْرِيكَ قَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنْ هِيَ إِلَّا نَثْرَةُ حُوتٍ يَنْثُرُهُ فِي كُلِّ عَامٍ مَرَّتَيْنِ ১২৮৫-و سُئِلَ مَالِك عَمَّا يُوجَدُ مِنْ لُحُومِ الصَّيْدِ عَلَى الطَّرِيقِ هَلْ يَبْتَاعُهُ الْمُحْرِمُ فَقَالَ أَمَّا مَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ يُعْتَرَضُ بِهِ الْحَاجُّ وَمِنْ أَجْلِهِمْ صِيدَ فَإِنِّي أَكْرَهُهُ وَأَنْهَى عَنْهُ فَأَمَّا أَنْ يَكُونَ عِنْدَ رَجُلٍ لَمْ يُرِدْ بِهِ الْمُحْرِمِينَ فَوَجَدَهُ مُحْرِمٌ فَابْتَاعَهُ فَلَا بَأْسَ بِهِ.১২৮৬-قَالَ مَالِك فِيمَنْ أَحْرَمَ وَعِنْدَهُ صَيْدٌ قَدْ صَادَهُ أَوْ ابْتَاعَهُ فَلَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يُرْسِلَهُ وَلَا بَأْسَ أَنْ يَجْعَلَهُ عِنْدَ أَهْلِهِ ১২৮৭- قَالَ مَالِك فِي صَيْدِ الْحِيتَانِ فِي الْبَحْرِ وَالْأَنْهَارِ وَالْبِرَكِ وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ إِنَّهُ حَلَالٌ لِلْمُحْرِمِ أَنْ يَصْطَادَهُ.

বর্ণনাকারী হতে বর্ণিতঃ

কা’ব আহবার (রহঃ) যখন সিরিয়া হতে আসেন কতিপয় ইহরাম বাঁধা আরোহীও তখন তাঁর সঙ্গী হয়। পথে তারা কিছু শিকারের গোশত পেলেন। কা’ব (রহঃ) তাদেরকে তা খেতে অনুমতি দিলেন। ঐ আরোহী দল মদীনায় এসে উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে উক্ত ঘটনা জানালেন। তিনি বললেন, তোমাদেরকে উক্ত গোশত খেতে কে ফতোয়া দিয়েছিলেন? তারা বললেন, কা’ব (রহঃ)। তিনি বললেন, ফিরে না আসা পর্যন্ত কা’বকে আমি তোমাদের আমীর বানিয়ে দিলাম।পরে মক্কার পথে তারা অনেক পঙ্গপাল দেখতে পেলেন। কা’ব তাদেরকে তা খেতে বলে দিলেন। তারা ফিরে উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে তা জানালেন। তিনি কা’বকে বললেন, কি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তুমি এই ধরনের ফতোয়া দিলে? কা’ব বললেন, এ জাতীয় পঙ্গপাল (টিড্ডী) সামুদ্রিক প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত (আর মুহরিমের জন্য সামুদ্রিক প্রাণী খাওয়া জায়েয)। উমর (রাঃ) বললেন, এটা কেমন করে কা’ব বললেন, আমীরুল মু’মিনীন! সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এ জাতীয় পঙ্গপাল এক প্রকার সামুদ্রিক মাছের হাঁচি হতে জন্ম হয়ে থাকে। উহা বৎসরে মাত্র দু’বারই হাঁচি দিয়া থাকে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)ইয়াহিয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল পথে শিকারের গোশত পাওয়া গেলে মুহরিম ব্যক্তি তা ক্রয় করতে পারে কি? তিনি বললেন, হজ্জযাত্রীদের নিয়তে শিকার করে থাকলে তা আমার কাছে মাকরূহ বলে মনে হয়, তবে সাধারণভাবে বিশেষ কোন নিয়ত ব্যতিরেকে শিকার করা হয়ে থাকলে উহা ক্রয় করায় দোষের কিছুই নেই। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহরাম বাঁধার সময় কোন ব্যক্তির নিকট তৎকর্তৃক শিকারকৃত কোন পশু ছিল অথবা শিকারকৃত কোন পশু ক্রয় করল। তবে তা ছেড়ে দেয়া তার জন্য জরুরি নয়, বরং বাড়িতে তা রেখে যাবে। মালিক (রহঃ) বলেন, সমুদ্র, নদী-নালা এবং পুকুর ইত্যাদির মাছ মুহরিমগণ শিকার করতে পারবে।

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৭৭৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো মুহরিমের শিকার বিধান। কা’ব আহবার র. সিরিয়া থেকে আসার সময় ইহরাম বাঁধা কিছু আরোহীর সঙ্গে ছিলেন। তারা পথে শিকারের গোশত পেলে তিনি খেতে অনুমতি দেন। পরে উমার রা. বিষয়টি জেনে কা’বকে তাদের আমীর করে দেন। এরপর পথে পঙ্গপাল পেলে কা’ব র. তা খেতে বলেন এবং এটিকে সামুদ্রিক প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত বলেন। বর্ণনার শেষে ইমাম মালিক র.-এর কয়েকটি মত এসেছে—হাজীদের জন্য শিকার করা হলে তা অপছন্দনীয়, সাধারণ শিকার ক্রয় করা যেতে পারে, ইহরামের সময় আগে থেকে থাকা শিকার ছাড়তে হবে না, আর সমুদ্র, নদী ও পুকুরের মাছ মুহরিম শিকার করতে পারে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মুহরিমের জন্য শিকার বিষয়ে উদ্দেশ্য ও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
  • হাজীদের জন্য বিশেষভাবে শিকার করা হলে তা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
  • মাছ সম্পর্কে বর্ণনায় সহজতা এসেছে—সমুদ্র, নদী ও পুকুরের মাছ হালাল বলা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন