২০/৩৯. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮১৪ - হজের শেষ আমল তাওয়াফ
বিদায়ী তাওয়াফ
হজের শেষ আমল: মক্কা ছাড়ার আগে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৮১৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৮১৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ لَا يَصْدُرَنَّ أَحَدٌ مِنْ الْحَاجِّ حَتَّى يَطُوفَ بِالْبَيْتِ فَإِنَّ آخِرَ النُّسُكِ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ১৩৬৬-قَالَ مَالِك فِي قَوْلِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَإِنَّ آخِرَ النُّسُكِ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ إِنَّ ذَلِكَ فِيمَا نُرَى وَاللهُ أَعْلَمُ لِقَوْلِ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى﴾ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ ﴿ وَقَالَ ﴾ ثُمَّ مَحِلُّهَا إِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيقِ ﴿ فَمَحِلُّ الشَّعَائِرِ كُلِّهَا وَانْقِضَاؤُهَا إِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيْقِ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন, বায়তুল্লাহর তাওয়াফ না করে হাজীগণের কেউ যেন মক্কা হতে না ফিরে। কারণ হজ্জের শেষ আমল হল বায়তুল্লাহর তাওয়াফ। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন, ‘শেষ আমল বায়তুল্লাহর তাওয়াফ’ উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর উক্তির অর্থ হল, আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوْبِ ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মর্যাদা দেবে উহা তার আল্লাহভীতি হতেই উৎসারিত।’ এ সবকিছুরই সম্পর্ক বায়তুল্লাহর সঙ্গে। সুতরাং হজ্জের সমস্ত রুকন ও আমল বায়তুল্লাহ্তে যেয়েই শেষ হয়।
[১] এই তাওয়াফকে তাওয়াফুল-বিদা বা বিদায়ী তাওয়াফ বলা হয়। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বলেন, কোনো হাজী যেন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ না করে মক্কা থেকে ফিরে না যায়। কারণ হজের শেষ আমল হলো বায়তুল্লাহর তাওয়াফ। ইমাম মালিক (র) এই কথার ব্যাখ্যায় আল্লাহর নিদর্শনের মর্যাদার আয়াত উল্লেখ করেছেন এবং বলেন, হজের রুকন ও আমল শেষ পর্যন্ত বায়তুল্লাহর সঙ্গেই সম্পৃক্ত। এখানে মূল বিষয় হলো বিদায়ী তাওয়াফ বা হজ শেষে বায়তুল্লাহর সঙ্গে শেষ সম্পর্ক রাখা। বর্ণনাটি হাজীদের মনে করিয়ে দেয় যে, হজ শুধু কিছু ছড়িয়ে থাকা কাজের নাম নয়; এর শেষ পরিণতি আল্লাহর ঘরের তাওয়াফের সঙ্গে জড়িত। তাই মক্কা ছাড়ার আগে শেষ আমল হিসেবে তাওয়াফের গুরুত্ব এখানে পরিষ্কার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাজীর মক্কা ছাড়ার আগে বায়তুল্লাহ তাওয়াফের কথা বলা হয়েছে।
- হজের শেষ আমল হিসেবে তাওয়াফকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- আল্লাহর নিদর্শনের মর্যাদা দেওয়া তাকওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- হজের আমলগুলো বায়তুল্লাহর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
