১২/৬৩. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১১২১ - তাহাজ্জুদে নূরের দোয়া ও পূর্ণ ওজু

সাজদায় দু‘আ করা

তাহাজ্জুদের সিজদায় নূরের দোয়া ও রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর রাতের আমল

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১১২১

أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي رِشْدِينَ وَهُوَ كُرَيْبٌ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ وَبَاتَ رَسُولُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَهَا، فَرَأَيْتُهُ قَامَ لِحَاجَتِهِ فَأَتَى الْقِرْبَةَ فَحَلَّ شِنَاقَهَا، ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءًا بَيْنَ الْوُضُوءَيْنِ، ثُمَّ أَتَى فِرَاشَهُ فَنَامَ، ثُمَّ قَامَ قَوْمَةً أُخْرَى فَأَتَى الْقِرْبَةَ فَحَلَّ شِنَاقَهَا، ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءًا هُوَ الْوُضُوءُ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي وَكَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا، وَاجْعَلْ مِنْ تَحْتِي نُورًا، وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ يَسَارِي نُورًا، وَاجْعَلْ أَمَامِي نُورًا، وَاجْعَلْ خَلْفِي نُورًا، وَأَعْظِمْ لِي نُورًا»، ثُمَّ نَامَ حَتَّى نَفَخَ، فَأَتَاهُ بِلَالٌ فَأَيْقَظَهُ لِلصَّلَاةِ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি আমার খালা মায়মূনাহ্ বিনতু হারিস (রাঃ)-এর নিকট রাত যাপন করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও তাঁর নিকট রাত যাপন করলেন। আমি তাঁকে দেখলাম, তিনি (ﷺ) তাঁর প্রয়োজনে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি পানির পাত্রের নিকট এসে তার ঢাকনা খুললেন। এরপর তিনি ওজুর মাঝে আবার ওজু করলেন। পরে তিনি তাঁর বিছানায় এসে নিদ্রা গেলেন। এরপর তিনি আবার ঘুম হতে জাগ্রত হলেন এবং পানির পাত্রের কাছে এসে তার ঢাকনা খুলে পূর্ণ ওজু করলেন (সালাতের ওজুর ন্যায়)।অতঃপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তিনি তাঁর সিজদায় বলেছিলেন- اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا، وَاجْعَلْ مِنْ تَحْتِي نُورًا، وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ يَسَارِي نُورًا، وَاجْعَلْ أَمَامِي نُورًا، وَاجْعَلْ خَلْفِي نُورًا، وَأَعْظِمْ لِي نُورًا "আল্ল-হুম্মাজ' আল ফী কূলবী নূরন ওয়াজ' আল ফী সাম্'ঈ নূরন ওয়াজ আল ফী বাসারী নূরন ওয়াজ' আল মিন তাহতী নূরন ওয়াজ' আল মিন ফাওক্বী নূরন ওয়া' আন ইয়ামীনী নূরন ওয়া' আন ইয়াসা-রী নূরন ওয়াজ' আল আমা-মী নূরন ওয়াজ' আল খলফী নূরন ওয়া আ'যিম লী নূরন" (হে আল্লাহ! আমার হৃদয়ে, আমার কর্ণে, আমার চক্ষুতে, আমার ঊর্ধ্বে ও নিম্নে, আমার ডানে ও বামে, আমার সামনে ও পিছনে জ্যোতি প্রদান কর, আর আমাকে অধিক অধিক নূর (জ্যোতি) দান কর।)। অতঃপর তিনি (ﷺ) নিদ্রা গেলেন, এমন কি তিনি নাকের শব্দ করলেন। পরে বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সালাতের জন্যে জাগালেন।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১১২১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর রাতের ইবাদতের একটি স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়। তিনি ঘুম থেকে উঠে প্রয়োজন সারেন, পানির পাত্র খুলে ওজু করেন, আবার বিশ্রাম নেন। পরে জেগে পূর্ণ ওজু করে সালাতে দাঁড়ান। সিজদায় তিনি আল্লাহর কাছে হৃদয়, কান, চোখ, ডান-বাম, সামনে-পেছনে এবং ওপর-নিচে নূর চান। তাই ‘তাহাজ্জুদের দোয়া’ ও ‘নূরের দোয়া’ খুঁজলে এই বর্ণনাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে নূর চাওয়ার ভাষা শুধু একটি দিকের জন্য নয়; জীবনের সব দিক আল্লাহর আলোয় ভরে দেওয়ার আবেদন এতে ফুটে ওঠে। হাদিসে আরও দেখা যায়, সালাতের পর তিনি ঘুমিয়েছিলেন এবং বিলাল রাঃ এসে তাঁকে সালাতের জন্য জাগিয়েছিলেন। পুরো বর্ণনা রাতের ওজু, তাহাজ্জুদ, সিজদার দোয়া ও নিয়মিত সালাতের প্রস্তুতিকে একসঙ্গে তুলে ধরে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাতের নফল সালাতের আগে পূর্ণ ওজু করা রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর আমলে দেখা যায়।
  • সিজদায় হৃদয়, শ্রবণ, দৃষ্টি ও চারপাশের জন্য আল্লাহর নূর চাওয়া যায়।
  • ইবাদতের পর বিশ্রাম নেওয়া এবং নির্ধারিত সালাতের জন্য সময়মতো জাগা এই বর্ণনায় এসেছে।
  • দোয়ার মধ্যে নিজের ভেতর ও বাইরের সব দিকের কল্যাণ চাওয়া যায়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন