১২/৭৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১১৩২ - দীর্ঘ তাহাজ্জুদ ও কুরআন তিলাওয়াত
সাজদায় অন্য প্রকার দু‘আ
তাহাজ্জুদে কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও দীর্ঘ রুকু-সিজদা
সুনানে আন-নাসায়ী : ১১৩২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১১৩২
أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ سَوَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْكِنْدِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ عَاصِمَ بْنَ حُمَيْدٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ:قُمْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَدَأَ فَاسْتَاكَ وَتَوَضَّأَ، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى فَبَدَأَ فَاسْتَفْتَحَ مِنَ الْبَقَرَةِ، لَا يَمُرُّ بِآيَةِ رَحْمَةٍ إِلَّا وَقَفَ وَسَأَلَ، وَلَا يَمُرُّ بِآيَةِ عَذَابٍ إِلَّا وَقَفَ يَتَعَوَّذُ، ثُمَّ رَكَعَ فَمَكَثَ رَاكِعًا بِقَدْرِ قِيَامِهِ، يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ: «سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ»، ثُمَّ سَجَدَ بِقَدْرِ رُكُوعِهِ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ: «سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ»، ثُمَّ قَرَأَ آلَ عِمْرَانَ، ثُمَّ سُورَةً، ثُمَّ سُورَةً، فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ
‘আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নাবী (ﷺ)-এর সাথে (ঘুম থেকে) উঠলাম। তিনি মিসওয়াক করতে আরম্ভ করলেন। এরপর ওজু করে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি শুরুতেই সূরা বাক্বারাহ্ শুরু করলেন। তিনি কোন রহমাতের আয়াতে পৌঁছলে তাতে দোয়া না করে ছাড়তেন না। আর কোন 'আযাবের আয়াতে পৌঁছলে সেখান থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করতেন।অতঃপর তিনি রুকূ' করলেন, রুকূ'তে তিনি ক্বিয়ামের সময় পরিমাণ অবস্থান করলেন। তিনি রুকূ'তে বলেছিলেন, "সুবহা-না যিল জাবারূতি ওয়াল মালাকৃতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল 'আযামাহ্”। অতঃপর তিনি রুকূ'র সমপরিমাণ সময় সিজদাহ্ করলেন। আর তিনি সিজদায় বলছিলেন, "সুবহা-না যিল জাবারূতি ওয়াল মালাকৃতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল 'আযামাহ্”। অতঃপর তিনি (অন্য রাক্'আতে) আ-লি 'ইমরান তিলাওয়াত করলেন। এরপর এক সূরা, অতঃপর আর এক সূরা এরূপ করলেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১১৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর দীর্ঘ রাতের সালাতের বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। তিনি ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক করেন, ওজু করেন এবং সালাতে দাঁড়ান। সূরা বাকারা দিয়ে তিলাওয়াত শুরু করেন। রহমতের আয়াতে পৌঁছলে থেমে আল্লাহর কাছে চান, আর শাস্তির আয়াতে পৌঁছলে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি দীর্ঘ রুকু করেন এবং ‘সুবহান যিল জাবারুতি ওয়াল মালাকুতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল আজামাহ’ পড়েন। সিজদাও রুকুর কাছাকাছি দীর্ঘ ছিল এবং একই তাসবিহ পড়তেন। পরে সূরা আলে ইমরানসহ আরও সূরা পড়েন। তাই এই হাদিসের মূল বিষয় তাহাজ্জুদে কুরআন তিলাওয়াত, আয়াতের অর্থে সাড়া দেওয়া এবং মনোযোগী দীর্ঘ সালাত। এখানে শুধু বেশি পড়া নয়, রহমত চাইতে থামা ও শাস্তি থেকে আশ্রয় চাওয়ার সচেতন আমলও স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের সালাতের আগে মিসওয়াক ও ওজুর আমল বর্ণিত হয়েছে।
- রহমতের আয়াতে দোয়া এবং শাস্তির আয়াতে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।
- রুকু ও সিজদা দীর্ঘ করে আল্লাহর মহিমার তাসবিহ পড়া হয়েছে।
- তাহাজ্জুদে কুরআন তিলাওয়াত অর্থের সঙ্গে যুক্ত করে পড়ার নমুনা পাওয়া যায়।
