১২/৮৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১১৪৫ - রুকু-সিজদার তাসবিহ ও রব্বিগফিরলি দোয়া
দু’ সাজদার মধ্যে দু‘আ
রুকু-সিজদার তাসবিহ ও ‘রব্বিগফিরলি’ দোয়া
সুনানে আন-নাসায়ী : ১১৪৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১১৪৫
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ سَمِعَهُ يُحَدِّثُ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ عَبْسٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَامَ إِلَى جَنْبِهِ، فَقَالَ: «اللَّهُ أَكْبَرُ ذُو الْمَلَكُوتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ»، ثُمَّ قَرَأَ بِالْبَقَرَةِ، ثُمَّ رَكَعَ فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ، فَقَالَ فِي رُكُوعِهِ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ، سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ»، وَقَالَ حِينَ رَفَعَ رَأْسَهُ: «لِرَبِّيَ الْحَمْدُ، لِرَبِّيَ الْحَمْدُ»، وَكَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى، سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى»، وَكَانَ يَقُولُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ: «رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي»
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নাবী (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ালেন।তিনি বললেন, اللَّهُ أَكْبَرُ ذُو الْمَلَكُوتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ “আল্ল-হু আকবার যুল মালাকৃতি ওয়াল জাবারূতি ওয়াল কিব্রিয়া-য়ি ওয়াল 'আযামাহ”।অতঃপর তিনি সূরা আল বাক্বারাহ্ পড়তে শুরু করলেন, পরে তিনি রুকু করলেন। তাঁর রুকু প্রায় তাঁর ক্বিয়ামের বরাবর ছিল।তিনি রুকুতে বললেন, سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ، سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ “সুবহা-না রব্বিয়াল 'আযীম, সুবহা-না রব্বিয়াল 'আযীম”।আর যখন তিনি মাথা উঠালেন, তখন বললেন, لِرَبِّيَ الْحَمْدُ، لِرَبِّيَ الْحَمْدُ “লিরব্বিয়াল হামদু লিরব্বিয়াল হাম্দু"।আর তিনি তাঁর সিজদায় বলতেন, سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى، سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى “সুবহা-না রব্বিয়াল আ'লা-, সুবহা-না রব্বিয়াল আ'লা-"।আর তিনি তাঁর দু' সিজদার মধ্যে বলতেন, "রব্বিফ্রিল্লী রব্বিফিলী"।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১১৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুযায়ফা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর সালাত দেখেন। শুরুতে তিনি আল্লাহর রাজত্ব, মহাশক্তি, মহত্ত্ব ও মহিমা স্মরণ করে তাকবীর বলেন। এরপর সূরা আল-বাকারা পড়েন। তাঁর রুকু কিয়ামের কাছাকাছি দীর্ঘ ছিল। রুকুতে তিনি “সুবহানা রব্বিয়াল আজীম” বলতেন। রুকু থেকে উঠে “লিরাব্বিয়াল হামদু” বলতেন। সিজদায় বলতেন “সুবহানা রব্বিয়াল আ’লা”। আর দুই সিজদার মাঝে বলতেন “রব্বিগফিরলি, রব্বিগফিরলি”। হাদিসটির মূল বিষয় সালাতের দোয়া, রুকুর তাসবিহ, সিজদার তাসবিহ এবং ক্ষমা চাওয়া। এখানে প্রতিটি অবস্থার সঙ্গে মানানসই যিকর আলাদা করে এসেছে। একই সঙ্গে বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, তাঁর সালাতে কিয়াম, রুকু ও সিজদা মনোযোগসহ দীর্ঘ ছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুকুতে ‘সুবহানা রব্বিয়াল আজীম’ বলার বর্ণনা আছে।
- সিজদায় ‘সুবহানা রব্বিয়াল আ’লা’ বলা হয়েছে।
- দুই সিজদার মাঝে ‘রব্বিগফিরলি’ বলে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।
- হাদিসে দীর্ঘ কিয়াম ও প্রায় সমান দীর্ঘ রুকুর কথা এসেছে।
