১৩/৫৭. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১২৯৮ - নামাজের সঠিক তাশাহহুদ ও দোয়া

নাবী (ﷺ)-এর ওপর দরূদ পাঠ করার পর দু‘আ নির্ধারণের ব্যাপারে স্বাধীনতা

আত্তাহিয়্যাতু ও তাশাহহুদ: নামাজে বসে কী পড়তে হয়

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১২৯৮

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، وَعَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَاللَّفْظُ لَهُ، قَالَا: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الْأَعْمَشُ، قَالَ: حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ، قُلْنَا: السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ مِنْ عِبَادِهِ، السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ وَفُلَانٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُولُوا السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلَامُ، وَلَكِنْ إِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتُمْ ذَلِكَ أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، ثُمَّ لِيَتَخَيَّرْ مِنَ الدُّعَاءِ بَعْدُ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ يَدْعُو بِهِ»

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে সালাত আদায়কালে বসতাম, তখন বলতাম, আল্লাহর ওপর সালাম আল্লাহর বান্দাদের পক্ষ হতে আর অমুক অমুকের ওপর সালাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা আল্লাহর ওপর সালাম বলিও না, কারণ আল্লাহই স্বয়ং সালাম।তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায়কালে বসে তখন সে যেন বলে- التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ লিল্লা-হি ওয়াস্ সলাওয়া-তু ওয়াত্ব ত্বইয়িবা-তু, আস্সালা-মু 'আলায়কা আইয়ুহান্ নাবিয়্যু, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকা-তুহ। আস্সালা-মু 'আলায়না- ওয়া 'আলা- 'ইবা-দিল্লা-হিস্ স-লিহীন” (সকল প্রকার মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক 'ইবাদাত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর সালাম, রহমাত ও বারাকাত বর্ষিত হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক।)।কেননা তোমরা যখন এ তাশাহ্হুদ পড়বে তা আসমান এবং জমিনের সকল নেক বান্দার নিকট পৌঁছবে।أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান 'আবদুহু ওয়া রাসূলুহ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা'বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল)।এরপর যে দোয়া ইচ্ছা হয় সে দোয়া পাঠ করবে।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১২৯৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় সালাতের তাশাহহুদ। সাহাবিরা আগে বলতেন, আল্লাহর ওপর তাঁর বান্দাদের পক্ষ থেকে সালাম। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁদের এভাবে বলতে নিষেধ করেন, কারণ আল্লাহ নিজেই আস-সালাম। এরপর তিনি সালাতের বৈঠকে পড়ার সঠিক তাশাহহুদ শেখান। এতে সব সম্মান, সালাত ও পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য বলা হয়; নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি সালাম, রহমত ও বরকত চাওয়া হয়; নিজেদের এবং সব নেক বান্দার জন্য সালাম চাওয়া হয়। নবী صلى الله عليه وسلم জানান, এই সালাম আসমান ও জমিনের সব নেক বান্দার কাছে পৌঁছে যায়। এরপর আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم তাঁর বান্দা ও রাসূল—এই সাক্ষ্য দিতে হয়। সবশেষে মুসল্লি নিজের পছন্দের দোয়া বেছে নিতে পারে। হাদিসটি তাশাহহুদের শব্দ, বিশ্বাস ও দোয়ার ধারাবাহিকতা পরিষ্কার করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আল্লাহর ওপর সালাম বলা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ আল্লাহই আস-সালাম।
  • সালাতের বৈঠকে নির্দিষ্ট তাশাহহুদ পড়তে শেখানো হয়েছে।
  • নেক বান্দাদের জন্য বলা সালাম আসমান ও জমিনের নেক বান্দাদের কাছে পৌঁছে।
  • শাহাদাতের পর পছন্দের দোয়া করার সুযোগ রয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন