১৯/৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫৬৩ - কুরবানির সঠিক সময়
‘ঈদের দিনে খুত্ববাহ্ পাঠ করা
কুরবানির সঠিক সময়: ঈদের সালাতের পর কুরবানি
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৫৬৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৫৬৩
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَهْزٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي زُبَيْدٌ، قَالَ: سَمِعْتُ الشَّعْبِيَّ، يَقُولُ: حَدَّثَنَا الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ، عِنْدَ سَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ، قَالَ:خَطَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ النَّحْرِ، فَقَالَ: «إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ بِهِ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ، ثُمَّ نَذْبَحَ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا، وَمَنْ ذَبَحَ قَبْلَ ذَلِكَ فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمٌ يُقَدِّمُهُ لِأَهْلِهِ»، فَذَبَحَ أَبُو بُرْدَةَ بْنُ دِينَارٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، عِنْدِي جَذَعَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُسِنَّةٍ قَالَ: «اذْبَحْهَا وَلَنْ تُوفِيَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ»
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বারা ইবনু 'আযিব (রাঃ) মসজিদের কোন এক খুঁটির নিকট দাঁড়িয়ে আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কুরবানীর দিন খুতবা দিলেন। তিনি বললেন, আজকের এ দিনে আমরা যে কাজ দ্বারা প্রথমে শুরু করব তা হলো আমরা সালাত আদায় করব এরপর কুরবানী করব। অতএব যারা অনুরূপ করবে তারা আমাদের সুন্নাত অনুযায়ী করবে। আর যারা সালাতের আগে কুরবানী করবে তা শুধু গোশতই হবে, যা তাদের পরিবারবর্গের জন্যে আগেই যাবেহ করে ফেলল (কুরবানী হবে না)।আবূ বুরদাহ্ ইবনু দীনার (রাঃ) সালাতের পূর্বেই যাবেহ করেছিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে একটি এক বৎসর বয়সের ছাগলের বাচ্চা আছে যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে দু' বৎসর বয়সের বাচ্চা অপেক্ষাও অধিক হৃষ্টপুষ্ট। তিনি বললেন, তুমি তাই কুরবানী করে দাও। কিন্তু তোমার পরে আর কারো জন্যে তা যথেষ্ট হবে না।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় কুরবানির সময়। নবীজি صلى الله عليه وسلم কুরবানির দিন খুতবায় বলেন, এই দিনে প্রথম কাজ হলো সালাত আদায় করা, তারপর কুরবানি করা। যে এভাবে করবে, সে নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর সুন্নাহ অনুযায়ী করবে। আর যে সালাতের আগে যবেহ করবে, সেটি পরিবারের জন্য আগাম যবেহ করা গোশত হবে; কুরবানি হবে না। এখানে কুরবানির নিয়ম খুব স্পষ্ট। আবু বুরদা (রাঃ)-এর ঘটনা থেকে বোঝা যায়, তাঁর জন্য বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নবীজি صلى الله عليه وسلم জানিয়ে দেন, তাঁর পরে আর কারও জন্য তা যথেষ্ট হবে না। তাই কুরবানির হাদিস বুঝতে হলে সময়ের বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানি ঈদের সালাতের পরে করতে হয়।
- সালাতের আগে যবেহ করলে তা কুরবানি হিসেবে গণ্য হয় না।
- বিশেষ অনুমতি সাধারণ নিয়ম নয়।
- সুন্নাহ মেনে ইবাদত করাই নিরাপদ পথ।
