২১/১৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৮৫৫ - কান্না ও মৃতের শাস্তির সঠিক ব্যাখ্যা
মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কান্না করা
কান্না ও মৃতের শাস্তি: আয়িশা (রাঃ)-এর সংশোধিত ব্যাখ্যা
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৮৫৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৮৫৫
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ آدَمَ، عَنْ عَبْدَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ»، فَذُكِرَ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ فَقَالَتْ: وَهِلَ، إِنَّمَا مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى قَبْرٍ، فَقَالَ: «إِنَّ صَاحِبَ الْقَبْرِ لَيُعَذَّبُ، وَإِنَّ أَهْلَهُ يَبْكُونَ عَلَيْهِ»، ثُمَّ قَرَأَتْ {وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [الأنعام: 164]
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু 'উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য তার পরিবারবর্গের কান্নার কারণে শাস্তি দেয়া হয়। এ হাদীস 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সামনে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, ইবনু 'উমার (রাঃ) ভুল করেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার এক কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেছিলেন, এ কবরবাসীকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে আর তার পরিবারবর্গ তার জন্য কান্না করছে।অতঃপর 'আয়িশাহ্ (রাঃ) পাঠ করলেন, وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى "কোনো বাহক অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না"- [সূরা আল আন'আম ৬: ১৬৪]।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৮৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে প্রথমে ইবনু উমর (রাঃ)-এর বর্ণনা এসেছে—মৃতকে পরিবারের কান্নার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়। বিষয়টি আয়িশা (রাঃ)-এর সামনে বলা হলে তিনি বলেন, ইবনু উমর ভুল করেছেন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এক কবরের পাশ দিয়ে গিয়ে বলেছিলেন, কবরবাসী শাস্তি পাচ্ছে এবং তার পরিবার তার জন্য কাঁদছে। অর্থাৎ দুটি ঘটনা একই সময়ে ঘটছিল; পরিবারের কান্নাকেই শাস্তির একমাত্র কারণ হিসেবে বলা হয়নি। এরপর আয়িশা (রাঃ) কুরআনের নীতি পড়েন: কোনো বাহক অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না। হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা এই বর্ণনার মূল শিক্ষা। একটি বাক্য শুনে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিয়ে পুরো ঘটনা, শব্দের সম্পর্ক এবং কুরআনের স্পষ্ট নীতি একসঙ্গে দেখা দরকার। এই হাদিস বর্ণনা যাচাই ও বুঝে গ্রহণের সুন্দর উদাহরণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একটি বর্ণনা বোঝার সময় পুরো ঘটনাটি জানা জরুরি।
- আয়িশা (রাঃ) কুরআনের নীতি দিয়ে ভুল বোঝাবুঝি সংশোধন করেছেন।
- কেউ অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না—এই নীতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ হয়েছে।
- সাহাবির বর্ণনা নিয়ে আলোচনা হলেও তাঁকে মিথ্যাবাদী বলা হয়নি।
