১২/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২০২২ - চোখের অশ্রু ও জিহবার দায়
মৃতের নিকট কাঁদা
শোকে চোখের অশ্রু ও জিহবার সাবধানতা
সহীহ মুসলিম : ২০২২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২০২২
حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّدَفِيُّ، وَعَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ الْعَامِرِيُّ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحَارِثِ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَبْدِ، اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ اشْتَكَى سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ شَكْوَى لَهُ فَأَتَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَعُودُهُ مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَسَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ وَجَدَهُ فِي غَشِيَّةٍ فَقَالَ " أَقَدْ قَضَى " . قَالُوا لاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ .فَبَكَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَلَمَّا رَأَى الْقَوْمُ بُكَاءَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بَكَوْا فَقَالَ " أَلاَ تَسْمَعُونَ إِنَّ اللَّهَ لاَ يُعَذِّبُ بِدَمْعِ الْعَيْنِ وَلاَ بِحُزْنِ الْقَلْبِ وَلَكِنْ يُعَذِّبُ بِهَذَا - وَأَشَارَ إِلَى لِسَانِهِ - أَوْ يَرْحَمُ " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ্ (রাঃ) কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ, সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে দেখতে গেলেন। তিনি সেখানে পৌছে তাঁকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, অবস্থা কি শেষ? লোকেরা বলল, না হে আল্লাহর রাসূল! অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাঁদতে লাগলেন। উপস্থিত লোকেরা তাঁর কান্না দেখে কাঁদতে শুরু করল। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কি শোননি যে, আল্লাহ তা‘আলা চোখের অশ্রুর কারণে ও হৃদয়ের অস্থিরতার জন্যে বান্দাকে শাস্তি দিবেন না? বরং তিনি এ কারণে ‘আযাব করবেন বা করুণা প্রদর্শন করবেন, তিনি জিহ্বার দিকে ইঙ্গিত করলেন।
ই.ফা. ২০০৬, ই.সে. ২০১৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ২০২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাদ ইবন উবাদা (রাঃ)-এর অসুস্থতার সময় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে দেখতে যান। তাঁকে সংজ্ঞাহীন দেখে নবী صلى الله عليه وسلم জানতে চান, অবস্থা কি শেষ? লোকেরা না বললে, অবস্থা দেখে নবী صلى الله عليه وسلم কাঁদতে লাগলেন। তাঁর কান্না দেখে উপস্থিত লোকেরাও কাঁদলেন। এরপর তিনি গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন: আল্লাহ চোখের অশ্রু বা হৃদয়ের দুঃখের কারণে শাস্তি দেন না; বরং জিহবার কারণে শাস্তি বা রহমত হতে পারে। তিনি জিহবার দিকে ইঙ্গিত করেন। তাই শোকের সময় কান্না স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু মুখে অভিযোগ, খারাপ কথা বা সীমালঙ্ঘন থেকে সাবধান থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চোখের অশ্রু ও হৃদয়ের দুঃখ নিজে শাস্তির কারণ নয়।
- শোকের সময় জিহবার কথা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
- নবী صلى الله عليه وسلم অসুস্থ সাহাবীকে দেখতে গিয়েছেন।
- কান্না থাকতে পারে, কিন্তু কথায় সীমা মানতে হয়।
