২১/১৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৮৬২ - গাল চাপড়ানো ও জাহিলি আহ্বানের নিষেধ
গণ্ডদেশে আঘাত করা
শোকে গাল চাপড়ানো নিষেধ: জাহিলি আচরণ থেকে বাঁচুন
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৮৬২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৮৬২
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: حَدَّثَنِي زُبَيْدٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ، وَشَقَّ الْجُيُوبَ، وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ»
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নাবী (ﷺ) বলেছেন : ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে গণ্ডদেশে আঘাত করে, (বুকের) কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহিলী যুগের দোয়ার মতো দোয়া করে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৮৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শোকের সময় তিনটি নির্দিষ্ট কাজ থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। প্রথমটি হলো গণ্ডদেশে বা গালে আঘাত করা। দ্বিতীয়টি বুকের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা। তৃতীয়টি জাহিলি যুগের মতো আহ্বান বা কথা বলা। অর্থাৎ বিপদে দুঃখ পাওয়া স্বাভাবিক হলেও দুঃখকে এমন আচরণে প্রকাশ করা ঠিক নয়, যা নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরিচয় দেয়। ‘আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়’ কথাটি সতর্কতার গুরুত্ব তুলে ধরে। তাই ইসলামে শোক প্রকাশের শিক্ষা হলো নিজেকে সামলানো, মুখ ও শরীরকে আঘাত না করা এবং জাহিলি ধরনের কথা না বলা। এই বর্ণনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কঠিন মুহূর্তে ভাষা ও আচরণ—দুটিই সংযত রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শোকের সময় নিজের গালে আঘাত করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- কাপড় ছিঁড়ে দুঃখ প্রকাশ করা নিষিদ্ধ আচরণ।
- জাহিলি যুগের মতো আহ্বান বা কথা বলা যাবে না।
- বিপদের মুহূর্তে ভাষা ও শরীরের আচরণ সংযত রাখা জরুরি।
