২১/৫০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৯৩২ - মৃতের ভালো-মন্দ সাক্ষ্য ও মানুষের প্রশংসা
মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করা
মৃত ব্যক্তির ভালো-মন্দ সাক্ষ্য: দুনিয়ায় আল্লাহর সাক্ষী কারা?
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৯৩২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৯৩২
أَخْبَرَنِي زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: مُرَّ بِجَنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا خَيْرًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَجَبَتْ»، وَمُرَّ بِجَنَازَةٍ أُخْرَى فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا شَرًّا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَجَبَتْ»، فَقَالَ عُمَرُ: فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي، مُرَّ بِجَنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا خَيْرًا، فَقُلْتَ: وَجَبَتْ، وَمُرَّ بِجَنَازَةٍ فَأُثْنِيَ عَلَيْهَا شَرًّا، فَقُلْتَ: وَجَبَتْ، فَقَالَ: «مَنْ أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ، وَمَنْ أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًّا وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ»
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একটি জানাযাহ্ অতিক্রম করার সময় তার সম্পর্কে ভাল কথা বলা হল। নাবী (ﷺ) বললেন, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেল। আর একটি জানাযাহ্ অতিক্রম করার সময় তার সম্পর্কে খারাপ কথা বলা হল। নাবী (ﷺ) বললেন, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেল। তখন 'উমর (রাঃ) বললেন, আপনার জন্য আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক; একটি জানাযাহ্ যাচ্ছিল যার প্রশংসা করা হল, আর আপনি বললেন যে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেল। অন্য একটি জানাযাহ্ যাচ্ছিল যার মন্দ আলোচনা করা হচ্ছিল আর আপনি বললেন যে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে গেল।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা যার ভাল প্রশংসা কর তার জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে যায় আর তোমরা যার মন্দ আলোচনা কর তার জন্য জাহান্নাম আবশ্যক হয়ে যায়। কারণ, দুনিয়াতে তোমরা আল্লাহর সাক্ষীস্বরূপ।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৯৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি জানাজার কথা এসেছে। প্রথম মৃত ব্যক্তির ভালো প্রশংসা করা হলে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, “আবশ্যক হয়ে গেল।” দ্বিতীয় মৃত ব্যক্তির মন্দ আলোচনা করা হলেও তিনি একই কথা বলেন। উমর (রাঃ) এর অর্থ জানতে চাইলে নবী صلى الله عليه وسلم ব্যাখ্যা করেন—যার ভালো প্রশংসা করা হয়েছে তার জন্য জান্নাত, আর যার মন্দ আলোচনা করা হয়েছে তার জন্য জাহান্নাম আবশ্যক হয়েছে; কারণ মানুষ দুনিয়ায় আল্লাহর সাক্ষী। এই বর্ণনা মৃত ব্যক্তির সামাজিক পরিচিতি ও মানুষের সত্য সাক্ষ্যের গুরুত্ব দেখায়। তবে এটিকে গীবত, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা ভিত্তিহীন অপবাদ দেওয়ার অনুমতি হিসেবে নেওয়া যাবে না; হাদিসে এমন কিছু বলা হয়নি। সরাসরি পাঠে মানুষের সম্মিলিত ভালো বা মন্দ সাক্ষ্যের কথা এসেছে। তাই জীবিত অবস্থায় এমন চরিত্র গড়ার শিক্ষা পাওয়া যায়, যাতে মানুষ সত্যভাবে কল্যাণের সাক্ষ্য দেয়। একই সঙ্গে কারও সম্পর্কে কথা বলার সময় সত্যতা ও দায়িত্ববোধ জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের সত্য ও পরিচিত সাক্ষ্য একজনের জীবনের প্রভাব প্রকাশ করতে পারে।
- ভালো চরিত্র মানুষের মুখে ভালো সাক্ষ্যের কারণ হয়।
- মৃত ব্যক্তির বিষয়ে ভিত্তিহীন প্রশংসা বা অপবাদ দেওয়া এই হাদিসের শিক্ষা নয়।
