১/১৩৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৩ - ইস্তিহাযা হায়জ নয়, সালাত চলবে
হায়যের পর গোসল প্রসঙ্গে
ইস্তিহাযা হায়জ নয়: গোসল করে সালাত আদায়ের শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২০৩
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُرْوَةَ وَعَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: اسْتُحِيضَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ سَبْعَ سِنِينَ، فَاشْتَكَتْ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ هَذِهِ لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ وَلَكِنْ هَذَا عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي، ثُمَّ صَلِّي»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উম্মু হাবীবাহ্ বিনতু জাহ্শ (রাঃ) সাত বছর ইস্তিহাযায় ভুগছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জানালেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটা হায়য নয় বরং এটা একটি শিরার রক্ত মাত্র। অতএব, তুমি গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মু হাবিবা বিনত জাহশ (রাঃ)-এর দীর্ঘ ইস্তিহাযার কথা এসেছে। তিনি সাত বছর এ অবস্থায় ছিলেন এবং বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জানান। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বললেন, এটি হায়জ নয়; এটি একটি শিরার রক্ত। তারপর নির্দেশ দিলেন, তিনি গোসল করবেন এবং সালাত আদায় করবেন। এখানে ইস্তিহাযা ও হায়জের পার্থক্য খুব স্পষ্ট। হায়জের জন্য যে সালাত ছাড়ার বিধান আছে, ইস্তিহাযার জন্য তা একইভাবে নয়। হাদিসটি শেখায়, দীর্ঘ রক্তস্রাব হলেও তা যদি ইস্তিহাযা হয়, তাহলে পবিত্রতার ব্যবস্থা করে সালাত চালু রাখতে হবে। ইস্তিহাযা হলে নামাজ, শিরার রক্ত, গোসল করে সালাত—এসব বিষয়ের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দীর্ঘ রক্তস্রাব হলেই তা হায়জ হবে—এমন নয়।
- ইস্তিহাযা শিরার রক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ইস্তিহাযার ক্ষেত্রে গোসল করে সালাত আদায়ের নির্দেশ এসেছে।
- সমস্যা হলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিধান জানার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।
