১/১৩৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৪ - ইস্তিহাযা ও সালাতে বাধা না হওয়া
হায়যের পর গোসল প্রসঙ্গে
ইস্তিহাযা হলে সালাত বন্ধ নয়: হায়জ শেষে গোসলের নিয়ম
সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২০৪
أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي النُّعْمَانُ وَالْأَوْزَاعِيُّ وَأَبُو مُعَيْدٍ وَهُوَ حَفْصُ بْنُ غَيْلَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَعَمْرَةُ بِنْتُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: اسْتُحِيضَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ امْرَأَةُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَهِيَ أُخْتُ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ، فَاسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ هَذِهِ لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ، وَلَكِنْ هَذَا عِرْقٌ، فَإِذَا أَدْبَرَتِ الْحَيْضَةُ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي، وَإِذَا أَقْبَلَتْ فَاتْرُكِي لَهَا الصَّلَاةَ» قَالَتْ عَائِشَةُ: فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلَاةٍ وَتُصَلِّي، وَكَانَتْ تَغْتَسِلُ أَحْيَانًا فِي مِرْكَنٍ فِي حُجْرَةِ أُخْتِهَا زَيْنَبَ وَهِيَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَنْ حُمْرةَ الدَّمِ لَتَعْلُو الْمَاءَ وَتَخْرُجُ فَتُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَا يَمْنَعُهَا ذَلِكَ مِنَ الصَّلَاةِ---[حكم الألباني] صحيح م دون قوله وتخرج فتصلي
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আবদুর রহমান ইবনু 'আওফ (রাঃ)-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ্ বিনতু জাহ্শ (রাঃ) যিনি ছিলেন উম্মুল মু'মিনীন। যায়নাব বিনতু জাহ্শ (রাঃ)-এর বোন ইস্তিহাযায় ভুগছিলেন। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে এ বিষয়ে ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন, এটা হায়য নয়। এটা একটি শিরার রক্ত মাত্র। অতএব যখন হায়য বন্ধ হয়ে যায় তখন গোসল করবে এবং সালাত আদায় করবে। আবার যখন হায়য আরম্ভ হবে তখন সালাত ছেড়ে দিবে।'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি প্রত্যেক সালাতের জন্যে গোসল করতেন এবং সালাত আদায় করতেন। কোন কোন সময় তিনি তাঁর বোন যায়নাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে থাকাকালীন সময়ও তাঁর কক্ষের টবে গোসল করতেন। এমনকি রক্তের লাল রং পানির উপর ফুটে উঠত। তিনি বের হতেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে সালাতে শারীক হতেন। এটা তাঁকে সালাতে বাধা প্রদান করত না।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মু হাবীবা বিনত জাহশ (রাঃ)-এর ইস্তিহাযার বিস্তারিত ঘটনা এসেছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে ফাতওয়া জানতে চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, এটি হায়জ নয়; এটি শিরার রক্ত। এরপর নির্দেশ দেওয়া হয়, হায়জ বন্ধ হলে গোসল করে সালাত আদায় করবে, আর হায়জ শুরু হলে সালাত ছেড়ে দেবে। বর্ণনায় আরও এসেছে, তিনি প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করতেন এবং রক্তের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও সালাতে শরীক হতেন; এ অবস্থা তাঁকে সালাত থেকে বাধা দিত না। এখানে মূল কথা হলো, হায়জ ও ইস্তিহাযা এক নয়। ইস্তিহাযা হলে পবিত্রতার ব্যবস্থা নিয়ে সালাত আদায় করা যায়। এই হাদিস ইস্তিহাযা, হায়জ, গোসল এবং সালাতের বাস্তব বিধান বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইস্তিহাযা হায়জ নয়; তাই দুটির বিধান আলাদা।
- হায়জ শুরু হলে সালাত থেকে বিরত থাকতে হবে।
- হায়জ বন্ধ হলে গোসল করে সালাত আদায় করতে হবে।
- ইস্তিহাযার রক্তস্রাব সালাতের পথে বাধা হিসেবে ধরা হয়নি।
