২১/১১৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৮১ - হাশরের দিন আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ
পুনরুত্থান
হাশরের দিন মানুষের অবস্থা: আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৮১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২০৮১
وأَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ: «إِنَّكُمْ مُلَاقُو اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا»
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মিম্বারের উপর ওয়াজ করার সময় বলতে শুনেছি: নিশ্চয় তোমরা নগ্ন পায়ে, বস্ত্রহীন ও খাৎনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হাশর ও আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মিম্বারে ওয়াজ করার সময় স্পষ্টভাবে বলেছেন, কেয়ামতের দিন মানুষ খালি পায়ে, বস্ত্রহীন এবং খৎনাহীন অবস্থায় আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। দুনিয়ায় মানুষের পোশাক, সম্পদ, সামাজিক পরিচয় বা বাহ্যিক মর্যাদা যতই আলাদা হোক, হাশরের দিন এসব কিছু সঙ্গে থাকবে না। হাদিসটি মানুষের পুনরুত্থানের একটি সরাসরি ও গভীর ছবি তুলে ধরে। তাই কেয়ামতের দিনের প্রস্তুতি বলতে এখানে বাহ্যিক সাজসজ্জা নয়, বরং আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা মনে রাখা বোঝায়। এই বর্ণনা ভয় দেখানোর জন্য বাড়তি কোনো কথা যোগ করে না; বরং মানুষের শেষ গন্তব্য ও জবাবদিহির বাস্তবতা সংক্ষেপে জানিয়ে দেয়। হাশরের দিন, কেয়ামতের মাঠ এবং আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ—এই তিনটি বিষয় হাদিসটির কেন্দ্রে রয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেয়ামতের দিন মানুষ দুনিয়ার পোশাক ও বাহ্যিক পরিচয় ছাড়া উঠবে।
- প্রত্যেক মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
- হাশরের বাস্তবতা স্মরণ করলে দুনিয়ার অহংকার ও বাহ্যিক মর্যাদার মোহ কমতে পারে।
