২১/১১৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৮৪ - কেয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা
পুনরুত্থান
কেয়ামতের ভয়াবহতা: কেউ অন্যের দিকে তাকাবে না
সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৮৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২০৮৪
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يُونُسَ الْقُشَيْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّكُمْ تُحْشَرُونَ حُفَاةً عُرَاةً»، قُلْتُ: الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ يَنْظُرُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ؟ قَالَ: «إِنَّ الْأَمْرَ أَشَدُّ مِنْ أَنْ يُهِمَّهُمْ ذَلِكَ»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে নাবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি (ﷺ) বলেছেন: অবশ্যই তোমাদেরকে [কিয়ামতের দিন] খালি পায়ে নগ্নদেহে একত্রিত করা হবে। আমি বললাম যে, পুরুষ এবং মহিলারা একে অন্যের দিকে তাকাবে না? তিনি (ﷺ) বললেন: তখন অবস্থা এমন ভয়াবহ হবে যে, তাদের এ চিন্তাও আসবে না।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের কেন্দ্রীয় বিষয় কেয়ামতের দিনের ভয়াবহ অবস্থা। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মানুষকে খালি পায়ে ও নগ্নদেহে একত্রিত করা হবে। তখন প্রশ্ন করা হয়, পুরুষ ও নারী কি একে অন্যের দিকে তাকাবে না? তিনি উত্তর দেন, সেদিনের অবস্থা এত কঠিন ও ভয়াবহ হবে যে এ ধরনের চিন্তা তাদের মনে আসবে না। এই উত্তর হাশরের পরিবেশকে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেয়। দুনিয়ায় মানুষ লজ্জা, দৃষ্টি ও পারস্পরিক উপস্থিতি নিয়ে সচেতন থাকে; কিন্তু কেয়ামতের দিন নিজের পরিণতি, হিসাব ও আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর উদ্বেগ সব চিন্তাকে ছাপিয়ে যাবে। হাদিসটি থেকে বাড়তি কোনো দৃশ্য কল্পনা করার দরকার নেই। এর সরাসরি বার্তা হলো, হাশরের দিনের গুরুত্ব মানুষের সাধারণ মানসিক ভাবনাকেও অতিক্রম করবে। তাই কেয়ামতের দিনের প্রস্তুতি এবং নিজের আমলের ব্যাপারে সচেতনতা এই বর্ণনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেয়ামতের দিনের ভয় সাধারণ দুনিয়াবি চিন্তার চেয়ে অনেক বড় হবে।
- হাশরের দিন মানুষ অন্যের বদলে নিজের অবস্থা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।
- আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি ব্যক্তিগতভাবে নিতে হয়।
