২১/১২০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৮৮ - সন্তান হারানোর সান্ত্বনা
শোকে সমবেদনা জানানো
সন্তান হারানোর শোক ও জান্নাতের দরজায় আশার হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৮৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২০৮৮
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدٍ وَهُوَ ابْنُ أَبِي الزَّرْقَاءِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَيْسَرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ قُرَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَلَسَ يَجْلِسُ إِلَيْهِ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِهِ، وَفِيهِمْ رَجُلٌ لَهُ ابْنٌ صَغِيرٌ يَأْتِيهِ مِنْ خَلْفِ ظَهْرِهِ، فَيُقْعِدُهُ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَهَلَكَ فَامْتَنَعَ الرَّجُلُ أَنْ يَحْضُرَ الْحَلْقَةَ لِذِكْرِ ابْنِهِ، فَحَزِنَ عَلَيْهِ، فَفَقَدَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَالِي لَا أَرَى فُلَانًا؟»قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، بُنَيُّهُ الَّذِي رَأَيْتَهُ هَلَكَ، فَلَقِيَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ عَنْ بُنَيِّهِ، فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ هَلَكَ، فَعَزَّاهُ عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «يَا فُلَانُ، أَيُّمَا كَانَ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَنْ تَمَتَّعَ بِهِ عُمُرَكَ، أَوْ لَا تَأْتِي غَدًا إِلَى بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ إِلَّا وَجَدْتَهُ قَدْ سَبَقَكَ إِلَيْهِ يَفْتَحُهُ لَكَ»، قَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، بَلْ يَسْبِقُنِي إِلَى بَابِ الْجَنَّةِ فَيَفْتَحُهَا لِي لَهُوَ أَحَبُّ إِلَيَّ، قَالَ: «فَذَاكَ لَكَ»
কুররাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হারুন ইবনু যায়দ অর্থাৎ আবুয যারক্বা' মু'আবিয়াহ্-এর পিতা কুররাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নাবী (সাঃ) যখন বসতেন তখন সাহাবীদের অনেকে তার কাছে এসে বসতেন। তাদের মধ্যে একজনের ছোট্ট একটি ছেলে ছিল। তিনি তার ছেলেটিকে পেছনের দিক থেকে নিজের সামনে এনে বসাতেন। অতঃপর ছেলেটি মারা গেল। তিনি ভারাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। তার ছেলের কথা মনে করে তিনি (সাঃ) মাজলিসে উপস্থিত হতে পারতেন না।নাবী (সাঃ) তাকে না দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন যে, আমি অমুক ব্যক্তিকে কেন দেখছি না? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার ছোট ছেলেটিকে দেখেছিলেন সে মারা গেছে। পরে তার সাথে দেখা করে নাবী (সাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন : তোমার ছোট ছেলেটির কি হয়েছে? সে ব্যক্তি বললো, ছেলেটি মারা গেছে। তখন তিনি (সাঃ) তাকে সান্তনা দিয়ে ধৈর্যধারণ করতে বললেন।তারপর তিনি বললেন যে, হে অমুক! তোমার কাছে কোন্টি বেশি প্রিয়- তার দ্বারা তোমার পার্থিব জীবন সুখময় করা, না ক্বিয়ামাতে জান্নাতের যে দরজা দিয়েই তুমি প্রবেশ করবে তাকে সেখানেই পাওয়া, তোমার পূর্বে সেখানে পৌছে তোমার জন্য দরজা খুলে দেয়া? সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! বরং সে আমার জান্নাতের দরজায় গিয়ে আমার জন্য দরজা খুলে দেবে এটাই আমার কাছে বেশি প্রিয়। তিনি (সাঃ) বললেন, তাহলে তোমার জন্য তা-ই হবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় সন্তান হারানোর শোক, ধৈর্য এবং জান্নাতের আশা। একজন সাহাবি তাঁর ছোট ছেলেকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর মজলিসে আসতেন। শিশুটি মারা গেলে বাবা গভীর দুঃখে মজলিসে আসা বন্ধ করেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেন, খবর নেন এবং পরে দেখা হলে ছেলের কথা জিজ্ঞেস করেন। মৃত্যু সংবাদ শুনে তিনি বাবাকে সান্ত্বনা দেন ও ধৈর্য ধরতে বলেন। এরপর দুটি বিষয়ের মধ্যে পছন্দ জানতে চান: সন্তান দুনিয়ায় বেঁচে থেকে বাবার জীবন আনন্দময় করবে, নাকি কেয়ামতের দিন জান্নাতের যে দরজা দিয়ে বাবা প্রবেশ করবেন, সেখানে আগে পৌঁছে দরজা খুলে দেবে। বাবা দ্বিতীয়টিই পছন্দ করেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তাঁর জন্য তাই হবে। হাদিসটি শোককে অস্বীকার করে না; বরং শোকাহত মানুষকে খোঁজ নেওয়া, সান্ত্বনা দেওয়া এবং আখিরাতের আশা দেখানোর সুন্দর উদাহরণ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শোকাহত ব্যক্তির অনুপস্থিতি লক্ষ্য করে তার খোঁজ নেওয়া উচিত।
- সন্তান হারানো বাবাকে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ধৈর্য ধরতে ও সান্ত্বনা নিতে বলেছেন।
- এই সাহাবিকে তাঁর শিশুর জান্নাতের দরজায় আগে পৌঁছানোর সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
