২২/৫৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২৯৬ - সফরে ইচ্ছা অনুযায়ী রোজা বা ইফতার
এ বিষয়ে হামযাহ্ ইবনু ‘আম্ম (রাঃ)-এর হাদীসে সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনায় ইখতিলাফ
সফরে ইচ্ছা হলে রোজা রাখুন, ইচ্ছা হলে ভাঙুন
সুনানে আন-নাসায়ী : ২২৯৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২২৯৬
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ حَمْزَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ؟ قَالَ: «إِنْ شِئْتَ أَنْ تَصُومَ فَصُمْ، وَإِنْ شِئْتَ أَنْ تُفْطِرَ فَأَفْطِرْ»
হামযাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সফরকালীন অবস্থায় সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: যদি তোমার সাওম পালন করতে ইচ্ছা হয় তবে পালন কর, আর যদি ভঙ্গ করতে ইচ্ছা হয় তবে ভঙ্গ কর।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফর অবস্থায় সাওম পালন সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে উত্তর দেন, রোজা পালন করতে ইচ্ছা হলে পালন কর এবং ভাঙতে ইচ্ছা হলে ভেঙে দাও। মুসাফিরের রোজা নিয়ে এই বক্তব্য খুব সরল ও পরিষ্কার। এতে দুটি বৈধ পছন্দের কথা পাশাপাশি এসেছে। রোজা রাখা ব্যক্তিকে দোষ দেওয়া হয়নি, আবার রোজা ভাঙা ব্যক্তিকেও দোষী বলা হয়নি। হাদিসে সফরের কষ্ট, দূরত্ব বা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত শর্ত উল্লেখ করা হয়নি। তাই ব্যাখ্যায় এমন শর্ত নিশ্চিতভাবে যোগ করা উচিত নয়। মূল শিক্ষা হলো, সফরে রোজা রাখার সামর্থ্য ও ইচ্ছা থাকলে রাখা যায়; আবার আল্লাহর দেওয়া সুযোগ গ্রহণ করে ভাঙাও যায়। এই পছন্দ নিয়ে মানুষের মধ্যে অকারণ বিরোধ না করাই হাদিসের সহজ ভাষার সঙ্গে মানানসই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে ইচ্ছা হলে রোজা পালন করা যায়।
- ইচ্ছা হলে মুসাফির রোজা ভেঙে দিতে পারেন।
- রোজা রাখা ও ভাঙা—দুই পছন্দই বক্তব্যে পাশাপাশি এসেছে।
- হাদিসে নেই এমন অতিরিক্ত শর্ত নিশ্চিতভাবে যোগ করা উচিত নয়।
