২৩/৯৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৬০২ - লোভহীন সম্পদ গ্রহণ ও বরকতের পথ
কোনো ব্যক্তির এমন কিছু চাওয়া যা তা অতি প্রয়োজন
সম্পদের বরকত পেতে লোভহীন মন কেন জরুরি
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৬০২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৬০২
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْكِينُ بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ سَأَلْتُهُ، فَأَعْطَانِي، ثُمَّ سَأَلْتُهُ، فَأَعْطَانِي، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا حَكِيمُ إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ، مَنْ أَخَذَهُ بِسَخَاوَةِ نَفْسٍ، بُورِكَ لَهُ فِيهِ، وَمَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ النَّفْسِ، لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ، وَكَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ، وَلَا يَشْبَعُ، وَالْيَدُ الْعُلْيَا، خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى»
হাকীম ইব্ন হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি [একবার] রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি আমাকে সাহায্য করলেন। এরপর তাঁর কাছে আবারও সাহায্য চাইলে তিনি (ﷺ) আবার আমাকে সাহায্যে করলেন। এরপর আমি তাঁর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি (ﷺ) আমাকে পুনরায় সাহায্য করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরপর বললেন, হে হাকীম! এ সমস্ত ধন-সম্পদ সুদৃশ্য-সুস্বাদু বটে, তবে যে ব্যক্তি এগুলো মনের বিশুদ্ধতার সঙ্গে গ্রহণ করে তার জন্য তাতে বারাকাত রয়েছে। আর যে ব্যক্তি লোভাতুর অন্তরে গ্রহণ করে তার জন্য তাতে কোনো বারাকাত দেয়া হবে না। সে ঐ ব্যক্তির মতো যে খায় করে কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না। আর উপরের হাত নীচের হাত হতে উত্তম।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৬০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم হাকীম (রাঃ)-কে বারবার সাহায্য করেছেন, এরপর সম্পদ সম্পর্কে একটি গভীর শিক্ষা দিয়েছেন। সম্পদ মানুষের কাছে সুন্দর ও আকর্ষণীয় মনে হয়। তাই কেউ যখন সম্পদ পায়, তখন তার অন্তরের অবস্থা দেখা জরুরি। যদি সে মনের প্রশস্ততা ও বিশুদ্ধতা নিয়ে গ্রহণ করে, তাতে বরকত থাকে। কিন্তু যদি লোভ ও কামনা নিয়ে গ্রহণ করে, তাতে বরকত থাকে না। এমন মানুষ খেয়েও তৃপ্ত হয় না—অর্থাৎ আরও পাওয়ার চাহিদা তাকে শান্ত হতে দেয় না। এখানে সম্পদের বরকত, লোভাতুর অন্তর এবং উপরের হাত নিচের হাত হতে উত্তম—এই তিনটি বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। হাদিসটি সম্পদকে লক্ষ্য নয়, বরং দায়িত্ব হিসেবে দেখতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ আকর্ষণীয়, তাই এর ব্যাপারে অন্তরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার।
- লোভী মনে সম্পদ নিলে তা অন্তরের শান্তি কমিয়ে দিতে পারে।
- বিশুদ্ধ মনে পাওয়া সম্পদে বরকতের আশা করা যায়।
- দান করা গ্রহণ করার চেয়ে উত্তম গুণ।
