২৫/১৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩১৩৪ - ইসলাম, হিজরত ও জিহাদের পথে শয়তানের বাধা
যে ইসলাম গ্রহণ করেছে, হিজরত করেছে এবং জিহাদ করেছে- তার সাওয়াব
শয়তানের বাধা অমান্য করা: ইসলাম, হিজরত ও জিহাদের শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩১৩৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩১৩৪
أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَقِيلٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَقِيلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ سَبْرَةَ بْنِ أَبِي فَاكِهٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " إِنَّ الشَّيْطَانَ قَعَدَ لِابْنِ آدَمَ بِأَطْرُقِهِ، فَقَعَدَ لَهُ بِطَرِيقِ الْإِسْلَامِ، فَقَالَ: تُسْلِمُ وَتَذَرُ دِينَكَ وَدِينَ آبَائِكَ وَآبَاءِ أَبِيكَ، فَعَصَاهُ فَأَسْلَمَ، ثُمَّ قَعَدَ لَهُ بِطَرِيقِ الْهِجْرَةِ، فَقَالَ: تُهَاجِرُ وَتَدَعُ أَرْضَكَ وَسَمَاءَكَ، وَإِنَّمَا مَثَلُ الْمُهَاجِرِ كَمَثَلِ الْفَرَسِ فِي الطِّوَلِ، فَعَصَاهُ فَهَاجَرَ، ثُمَّ قَعَدَ لَهُ بِطَرِيقِ الْجِهَادِ، فَقَالَ: تُجَاهِدُ فَهُوَ جَهْدُ النَّفْسِ وَالْمَالِ، فَتُقَاتِلُ فَتُقْتَلُ، فَتُنْكَحُ الْمَرْأَةُ، وَيُقْسَمُ الْمَالُ، فَعَصَاهُ فَجَاهَدَ، " فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ قُتِلَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، وَإِنْ غَرِقَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، أَوْ وَقَصَتْهُ دَابَّتُهُ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ»
সাবরাহ্ ইবনু আবূ ফাকিহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি : শয়তান আদাম-সন্তানের রাস্তায় বসে থাকে। সে ইসলামের পথে বসে বলে : তুমি ইসলাম গ্রহণ করে তোমার বাপ দাদা এবং তোমার পিতার পূর্বপুরুষদের ধর্ম পরিত্যাগ করবে? আদাম সন্তান তার কথা অমান্য করে ইসলাম কবুল করে। তারপর শয়তান তার হিজরতের রাস্তায় বসে বলে : তুমি হিজরত করবে, তোমার ভূমি ও আকাশ ত্যাগ করবে? মুহাজির তো একটি লম্বা রশিতে আবদ্ধ ঘোড়ার ন্যায়। তাই সে ব্যক্তি তার কথা অমান্য করে হিজরত করবে।এরপর শয়তান তার জিহাদের রাস্তায় বসে এবং বলে : তুমি কি জিহাদ করবে? এতো নিজকে এবং নিজের ধন সম্পদকে ধ্বংস করা। তুমি যুদ্ধে নিহত হবে, আর তোমার স্ত্রী অন্যের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে, তোমার সম্পদ ভাগ-বণ্টন হবে। সে ব্যক্তি শয়তানকে অমান্য করে জিহাদে যাবে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন : যে এরূপ করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো মহান ও মহীয়ান আল্লাহর জন্য ওয়াজিব। আর যে ব্যক্তি শহীদ হয়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওপর ওয়াজিব। যদি সে ডুবে যায়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওপর ওয়াজিব। আর যদি তার বাহন তাকে ফেলে দিয়ে গর্দান ভেঙ্গে দেয় বা মেরে ফেলে, তাকেও জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওপর ওয়াজিব।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩১৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, শয়তান আদম সন্তানের বিভিন্ন পথে বসে থাকে। প্রথমে ইসলামের পথে বাধা দেয়—বাপ-দাদা ও পূর্বপুরুষদের ধর্ম ছাড়ার কথা বলে। মানুষ তার কথা অমান্য করে ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর শয়তান হিজরতের পথে বসে—ভূমি ও আকাশ ছেড়ে যাওয়ার কথা বলে ভয় দেখায়। মানুষ তাকে অমান্য করে হিজরত করে। এরপর শয়তান জিহাদের পথে বসে—জান-মাল, নিহত হওয়া, পরিবার ও সম্পদের কথা বলে ভয় দেখায়। মানুষ তাকে অমান্য করে জিহাদে যায়। শেষে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যে এমন করবে, তার জন্য জান্নাতের কথা এসেছে; শহীদ হওয়া, ডুবে মারা যাওয়া বা বাহন থেকে পড়ে মৃত্যু—এসব অবস্থার কথাও হাদিসে এসেছে। এই হাদিসে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও আল্লাহর পথে দৃঢ়তার শিক্ষা স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শয়তান ভালো পথে বাধা দিতে পারে—হাদিসে এ কথা এসেছে।
- ইসলাম, হিজরত ও জিহাদের পথে ভয় দেখানো কুমন্ত্রণা হিসেবে এসেছে।
- আল্লাহর পথে এগোতে শয়তানের কথা অমান্য করার শিক্ষা আছে।
- হাদিসে বিভিন্ন মৃত্যুর অবস্থার সঙ্গে জান্নাতের কথা বলা হয়েছে।
