৭/১৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৪৫ - মুয়াজ্জিনের ক্ষমা ও সৃষ্টির সাক্ষ্য
উচ্চৈঃস্বরে আযান দেয়া
মুয়াজ্জিনের ফজিলত: কণ্ঠের দূরত্ব পর্যন্ত ক্ষমা ও সাক্ষ্য
সুনানে আন-নাসায়ী : ৬৪৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৬৪৫
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَا: حَدَّثَنَا يَزِيدُ يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ سَمِعَهُ مِنْ فَمِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «الْمُؤَذِّنُ يُغْفَرُ لَهُ بِمَدِّ صَوْتِهِ وَيَشْهَدُ لَهُ كُلُّ رَطْبٍ وَيَابِسٍ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, মুয়াজ্জিনের আওয়াজের দূরত্ব পরিমাণ তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং প্রত্যেক শুষ্ক ও আর্দ্র জিনিস (অর্থাৎ জীবন্ত ও মৃত) তার (ঈমানের) সাক্ষী দিবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুয়াজ্জিনের ফজিলত খুব সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী ভাষায় এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মুয়াজ্জিনের আওয়াজ যত দূর পর্যন্ত পৌঁছায়, সেই দূরত্ব পরিমাণ তাকে ক্ষমা করা হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক শুষ্ক ও আর্দ্র জিনিস তার জন্য সাক্ষ্য দেবে। অনুবাদে শুষ্ক ও আর্দ্র কথাটি জীবিত ও মৃত বা নানা ধরনের সৃষ্টিকে বোঝাতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে হাদিসের মূল বক্তব্য হলো, আযানের কণ্ঠ বহুদূর ছড়িয়ে পড়া এবং সেই ডাকের সাক্ষী হওয়া। এটি মুয়াজ্জিনের কাজকে কেবল নিয়মিত দায়িত্ব হিসেবে নয়, বড় মর্যাদার ইবাদত হিসেবে তুলে ধরে। এখানে অতিরিক্ত শর্ত বা নিশ্চয়তা যোগ না করে বলা যায়, আন্তরিকভাবে আযান দেওয়া ক্ষমা লাভের কারণ এবং কিয়ামতের দিনের সাক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি সম্মানজনক আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ যত দূর পৌঁছায়, তত দূর পর্যন্ত ক্ষমার কথা হাদিসে এসেছে।
- শুষ্ক ও আর্দ্র সবকিছু মুয়াজ্জিনের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।
- আযান দেওয়া শুধু দায়িত্ব নয়; এটি ক্ষমা ও সাক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত।
