১/৮৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৮৭ - উম্মতের জন্য নবীর দোয়া ও কান্না
উম্মাতের জন্য নাবী (ﷺ)-এর দু‘আ ও তাদের প্রতি মায়া-মমতায় তাঁর ক্রন্দন
উম্মতের জন্য নবীজির দোয়া: ‘আমার উম্মত, আমার উম্মত’
সহীহ মুসলিম : ৩৮৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৮৭
حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّدَفِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ بَكْرَ بْنَ سَوَادَةَ، حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ تَلاَ قَوْلَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي إِبْرَاهِيمَ { رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي} الآيَةَ . وَقَالَ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ ﴾إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ﴿ فَرَفَعَ يَدَيْهِ وَقَالَ " اللَّهُمَّ أُمَّتِي أُمَّتِي " . وَبَكَى فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا جِبْرِيلُ اذْهَبْ إِلَى مُحَمَّدٍ وَرَبُّكَ أَعْلَمُ فَسَلْهُ مَا يُبْكِيكَ فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ - عَلَيْهِ الصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ - فَسَأَلَهُ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِمَا قَالَ . وَهُوَ أَعْلَمُ . فَقَالَ اللَّهُ يَا جِبْرِيلُ اذْهَبْ إِلَى مُحَمَّدٍ فَقُلْ إِنَّا سَنُرْضِيكَ فِي أُمَّتِكَ وَلاَ نَسُوءُكَ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কোরআনে ইবরাহীম (আঃ) এর দোয়া সম্বলিত আয়াতঃ “হে আমার প্রতিপালক! এ সকল প্রতিমা বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত। আর যে আমার অবাধ্য হবে তুমি তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু”-(সূরা ইবরাহীম ১৪ : ৩৬) তিলাওয়াত করেন। আর ‘ঈসা (আঃ) বলেছেনঃ “তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে ক্ষমা কর, তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়”-(সূরা আল মায়িদাহ্ ৫ : ১১৮) তারপর তিনি তাঁর উভয় হাত উঠালেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আমার উম্মত, আমার উম্মত! আর কেঁদে ফেললেন।তখন মহান আল্লাহ বললেন, হে জিবরীল! মুহাম্মাদের নিকট যাও, তোমার রব তো সবই জানেন-তাঁকে জিজ্ঞেস কর, তিনি কাঁদছেন কেন? জিবরীল (আঃ) এসে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যা বলেছিলেন, তা তাঁকে অবহিত করলেন। আর আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ। তখন আল্লাহ তা’আলা বললেন, হে জিবরীল! তুমি মুহাম্মাদের কাছে যাও এবং তাঁকে বল, “নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ) আপনার উম্মতের ব্যাপারে আপনাকে সন্তুষ্ট করে দিব, আপনাকে অসন্তুষ্ট করব না”।
ই.ফা. ৩৯৩; ই.সে. ৪০৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর উম্মতের প্রতি গভীর মমতার ছবি দেখা যায়। তিনি ইব্রাহিম (আঃ)-এর দোয়া সম্বলিত আয়াত এবং ঈসা (আঃ)-এর কথা তিলাওয়াত করেন। এরপর তিনি দুই হাত তুলে বলেন, “হে আল্লাহ! আমার উম্মত, আমার উম্মত!” এবং কেঁদে ফেলেন। হাদিসের মূল বিষয় হলো নবীর উম্মতের জন্য দোয়া, নবীর কান্না এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সান্ত্বনা। এখানে “রাসূলের উম্মতের জন্য দোয়া” বিষয়টি খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। আল্লাহ জিবরীল (আঃ)-কে পাঠিয়ে জানালেন যে তিনি নবীজিকে তাঁর উম্মতের ব্যাপারে সন্তুষ্ট করবেন এবং তাঁকে অসন্তুষ্ট করবেন না। তাই এই হাদিস উম্মতের প্রতি নবীজির দরদ ও আল্লাহর রহমতের আশা শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর উম্মতের জন্য গভীর মমতা রাখতেন।
- দোয়ার সময় হাত উঠানো এবং আল্লাহর কাছে মিনতি করা হাদিসে এসেছে।
- আল্লাহ তাঁর নবীকে উম্মতের ব্যাপারে সান্ত্বনার খবর দিয়েছেন।
- কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত বান্দার মনে আল্লাহর প্রতি আশা জাগায়।
