৭/২১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৬১ - খন্দকের যুদ্ধে কাজা সালাত আদায়ের পদ্ধতি
ক্বাযা সলাতের আযান
কাজা সালাত আদায়ের নিয়ম: খন্দকের যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৬৬১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৬৬১
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ:شَغَلَنَا الْمُشْرِكُونَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ عَنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ، وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يَنْزِلَ فِي الْقِتَالِ مَا نَزَلَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: ﴾وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ﴿ [الأحزاب: 25] «فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَالًا فَأَقَامَ لِصَلَاةِ الظُّهْرِ فَصَلَّاهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيهَا لِوَقْتِهَا، ثُمَّ أَقَامَ لِلْعَصْرِ فَصَلَّاهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيهَا فِي وَقْتِهَا، ثُمَّ أَذَّنَ لِلْمَغْرِبِ فَصَلَّاهَا كَمَا كَانَ يُصَلِّيهَا فِي وَقْتِهَا»
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
খন্দাকের যুদ্ধের দিন মুশরিকরা আমাদেরকে যুহরের সালাত হতে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত ব্যস্ত রেখেছিল। তা যুদ্ধের সময় সালাতুল খওফ সম্পর্কিত আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার আগের ঘটনা।তারপর আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন- “যুদ্ধে মু'মিনদের জন্যে আল্লাহই যথেষ্ট”- (সূরা আল আহযাব ৩৩: ২৫)।তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিলাল (রাঃ)-কে ইক্বামাত দেয়ার আদেশ করলেন। তিনি যুহরের সালাতের ইক্বামাত দেন। নাবী (ﷺ) সালাতের প্রকৃত ওয়াক্তে আদায় করার মতো যুহরের কাজা সালাত আদায় করেন। পরে আসরের জন্যে ইক্বামাত বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন সালাতের প্রকৃত ওয়াক্তে আদায় করার ন্যায় আসরের কাজা সালাত আদায় করেন। তারপর মাগরিবের আযান দেয়া হয় এবং তা নির্ধারিত সময়ে আদায় করার ন্যায় আদায় করেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো যুদ্ধের কঠিন অবস্থায় ছুটে যাওয়া সালাত পরে আদায় করা। খন্দকের যুদ্ধের দিন মুশরিকদের চাপ এত বেশি ছিল যে মুসলিমরা যুহরের সালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বিলাল (রাঃ)-কে ইকামাত দিতে বলেন। প্রথমে যুহরের কাজা সালাত আদায় করা হয়, এরপর আসরের কাজা সালাত। প্রতিটি সালাত এমনভাবে পড়া হয়, যেমন তা নিজ সময়ের মধ্যে আদায় করা হয়। তারপর মাগরিবের আজান দেওয়া হয় এবং মাগরিব নির্ধারিত নিয়মে আদায় করা হয়। এখানে কাজা সালাতের ধারাবাহিকতা, ইকামাত এবং সালাতের স্বাভাবিক পদ্ধতি বজায় রাখার বিষয়টি স্পষ্ট। হাদিসটি একই সঙ্গে জানায়, ঘটনাটি সালাতুল খাওফের বিধান নাজিল হওয়ার আগের। তাই ব্যাখ্যায় পরবর্তী যুদ্ধকালীন বিধান মিশিয়ে ফেলা ঠিক হবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চরম বাধায় সালাত ছুটে গেলে সুযোগ পাওয়ার পর তা আদায় করা হয়।
- ছুটে যাওয়া একাধিক সালাত ধারাবাহিকভাবে আদায় করার নজির হাদিসে আছে।
- কাজা সালাতও স্বাভাবিক সালাতের পদ্ধতিতে আদায় করা হয়েছে।
- ঘটনাটি সালাতুল খাওফের আয়াত নাজিলের আগের—এ পার্থক্য মনে রাখা জরুরি।
