৭/২২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৬২ - চার ওয়াক্ত কাজা সালাত ধারাবাহিকভাবে আদায়
নির্ধারিত সময়ের ও ক্বাযা সলাতের জন্যে এক আযান যথেষ্ট তবে প্রত্যেক সলাতের জন্যে পৃথক ইক্বামাত বলা
চার ওয়াক্ত কাজা সালাত: আজান, ইকামাত ও সঠিক ধারাবাহিকতা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৬৬২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৬৬২
أَخْبَرَنَا هَنَّادٌ، عَنْ هُشَيْمٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «إِنَّ الْمُشْرِكِينَ شَغَلُوا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَرْبَعِ صَلَوَاتٍ يَوْمَ الْخَنْدَقِ، فَأَمَرَ بِلَالًا فَأَذَّنَ، ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الظُّهْرَ، ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْعَصْرَ، ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ، ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْعِشَاء»---[حكم الألباني] صحيح لغيره
আবূ উবায়্দা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'ঊদ (রাঃ) বলেছেন যে, খন্দাকের যুদ্ধের দিন মুশরিকরা নাবী (ﷺ)-কে চার ওয়াক্ত সালাত হতে ব্যস্ত রেখেছিল। পরে তিনি বিলাল (রাঃ)-কে আযান দেয়ার নির্দেশ দেন, বিলাল (রাঃ) আযান দেন, পরে ইক্বামাত দেন। নাবী (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় করেন। আবার ইক্বামাত দেন এবং আসরের সালাত আদায় করেন। আবার ইক্বামাত বলা হয় ও মাগরিবের সালাত আদায় করেন। আবার ইক্বামাত বলা হয় এবং তিনি 'ইশার সালাত আদায় করেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খন্দকের যুদ্ধের দিনের একটি কঠিন পরিস্থিতি বর্ণিত হয়েছে। মুশরিকদের ব্যস্ততার কারণে নবী صلى الله عليه وسلم চার ওয়াক্ত সালাত সময়মতো আদায় করতে পারেননি। বাধা কেটে গেলে তিনি বিলাল (রাঃ)-কে আজান দিতে বলেন। এরপর যুহরের জন্য ইকামাত দেওয়া হয় এবং যুহর আদায় করা হয়। আবার ইকামাত দিয়ে আসর, তারপর ইকামাত দিয়ে মাগরিব এবং শেষে ইকামাত দিয়ে ইশা আদায় করা হয়। হাদিসের ভাষা থেকে বোঝা যায়, একটি আজানের পর প্রতিটি ফরজ সালাতের আগে আলাদা ইকামাত বলা হয়েছিল। এখানে মূল শিক্ষা হলো ছুটে যাওয়া সালাত বাদ না দেওয়া এবং সুযোগ পাওয়া মাত্র সুশৃঙ্খলভাবে আদায় করা। তবে কেন সালাত ছুটেছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ: এটি সাধারণ অবহেলা নয়, বরং যুদ্ধের প্রবল ব্যস্ততা ও বাধার ঘটনা। তাই এ বর্ণনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ দেরি করার অনুমতি হিসেবে দেখা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ছুটে যাওয়া ফরজ সালাত পরে ধারাবাহিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
- এক আজানের পর প্রতিটি সালাতের জন্য পৃথক ইকামাত দেওয়া হয়েছে।
- কাজা সালাতের ক্রম যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশা হিসেবে রাখা হয়েছে।
- যুদ্ধের বাধাকে সাধারণ অবহেলার সঙ্গে এক করা যাবে না।
