৭/২৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৬৩ - যুদ্ধের পর চার সালাত ও আল্লাহর জিকির
প্রত্যেক সলাতের জন্যে ইক্বামাত বলাই যথেষ্ট
চার কাজা সালাত ও আল্লাহর জিকির: যুদ্ধের পরের আমল
সুনানে আন-নাসায়ী : ৬৬৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৬৬৩
أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ دِينَارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، أَنَّ أَبَا الزُّبَيْرِ الْمَكِّيَّ حَدَّثَهُمْ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، أَنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ حَدَّثَهُمْ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ قَالَ: كُنَّا فِي غَزْوَةٍ فَحَبَسَنَا الْمُشْرِكُونَ عَنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاء، فَلَمَّا انْصَرَفَ الْمُشْرِكُونَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُنَادِيًا فَأَقَامَ لِصَلَاةِ الظُّهْرِ فَصَلَّيْنَا، وَأَقَامَ لِصَلَاةِ الْعَصْرِ فَصَلَّيْنَا، وَأَقَامَ لِصَلَاةِ الْمَغْرِبِ فَصَلَّيْنَا، وَأَقَامَ لِصَلَاةِ الْعِشَاء فَصَلَّيْنَا، ثُمَّ طَافَ عَلَيْنَا فَقَالَ: «مَا عَلَى الْأَرْضِ عِصَابَةٌ يَذْكُرُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ غَيْرُكُمْ»
আবদুল্লাহ ইব্ন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা একটি লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলাম, মুশরিকরা আমাদেরকে যুহর, আসর, মাগরিব ও 'ইশার সালাত আদায় করার সুযোগ দেয়নি। যখন তারা চলে গেল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুয়াজ্জিনকে ইক্বামাত দেয়ার আদেশ দিলেন। তারপর যুহরের সালাতের জন্যে ইক্বামাত বলা হলে আমরা সালাত আদায় করলাম। আবার আসরের সালাতের জন্যে ইক্বামাত বলা হলে আমরা সালাত আদায় করলাম। পরে মাগরিবের জন্যে ইক্বামাত বলা হলে আমরা সালাত আদায় করলাম। পুনরায় 'ইশার সালাতের ইক্বামাত বলা হল এবং আমরা সালাত আদায় করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, এখন জমিনের উপর তোমরা ব্যতীত এমন আর কোন দল নেই যারা আল্লাহ তা'আলার যিক্র করছে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি যুদ্ধের সময় মুসলিমদের যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করতে না পারার কথা এসেছে। মুশরিকরা সরে গেলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم একজন ঘোষককে ইকামাত দিতে বলেন। এরপর যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশা—প্রতিটি সালাতের জন্য আলাদা ইকামাত বলা হয় এবং সাহাবিরা জামাতে সালাত আদায় করেন। সালাত শেষ হওয়ার পর নবী صلى الله عليه وسلم তাঁদের দিকে ফিরে বলেন, তখন জমিনে তাঁদের ছাড়া আর কোনো দল আল্লাহর জিকির করছিল না। হাদিসে সালাতকে আল্লাহর জিকিরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। এটি দেখায়, কঠিন পরিস্থিতি শেষ হলে মুসলিমরা প্রথম সুযোগেই ইবাদতে ফিরে এসেছিলেন। একই সঙ্গে বর্ণনাটি জামাত, ইকামাত এবং ধারাবাহিকভাবে কাজা সালাত আদায়ের একটি পরিষ্কার ছবি দেয়। তবে এই প্রশংসাকে সব সময়ের সব মানুষের বিষয়ে সাধারণ দাবি না করে, হাদিসে বর্ণিত সেই নির্দিষ্ট মুহূর্তের বক্তব্য হিসেবেই বোঝা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাধা দূর হলে ছুটে যাওয়া সালাত দ্রুত আদায় করা হয়েছে।
- প্রতিটি ফরজ সালাতের আগে আলাদা ইকামাত বলা হয়েছে।
- সালাত আল্লাহর জিকিরের একটি প্রধান রূপ।
- হাদিসের বিশেষ প্রশংসা সেই নির্দিষ্ট দল ও মুহূর্তের সঙ্গে যুক্ত।
