৭/৩৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৭৮ - আজানের পর দরুদ ও ওয়াসিলার দোয়া
আযানের পরে নাবী (ﷺ)-এর ওপর দরূদ পড়া
আজানের পর দরুদ ও ওয়াসিলা চাওয়ার পূর্ণ আমল
সুনানে আন-নাসায়ী : ৬৭৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৬৭৮
أَخْبَرَنَا سُوَيْدٌ قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ، أَنَّ كَعْبَ بْنَ عَلْقَمَةَ سَمِعَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جُبَيْرٍ مَوْلَى نَافِعِ بْنِ عَمْرٍو الْقُرَشِيِّ يُحَدِّثُ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ وَصَلُّوا عَلَيَّ؛ فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا، ثُمَّ سَلُوا اللَّهَ لِي الْوَسِيلَةَ؛ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لَا تَنْبَغِي إِلَّا لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ أَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ، فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ»
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আবদুল্লাহ ইবনু '‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা যখন মুয়াজ্জিনকে আযান দিতে শুন তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তা বলবে এবং আমার ওপর দরূদ পাঠ করবে। কারণ যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তাঁর ওপর দশবার রহমাত বর্ষণ করনে। তারপর আল্লাহর কাছে আমার জন্যে ওয়াসীলাহ্ চাইবে, কারণ ওয়াসীলাহ্ জান্নাতের একটি মানযিল। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজন ছাড়া আর কেউ এর যোগ্য হবে না। আশা করি, আমিই হব সে ব্যক্তি। অতএব যে ব্যক্তি আমার জন্যে ওয়াসীলাহ্ চাইবে, তার জন্যে আমার সুপারিশ অবধারিত হবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আজান শোনার পর করণীয় কয়েকটি আমল ধারাবাহিকভাবে বলা হয়েছে। প্রথমে মুয়াজ্জিন যা বলেন, শ্রোতাকেও তা বলতে হবে। এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর ওপর দরুদ পাঠ করতে হবে। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওপর একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। তারপর আল্লাহর কাছে নবী صلى الله عليه وسلم-এর জন্য “ওয়াসিলা” চাইতে বলা হয়েছে। ওয়াসিলা জান্নাতের একটি বিশেষ মর্যাদা, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজন পাবেন; নবী صلى الله عليه وسلم আশা প্রকাশ করেছেন, তিনিই সেই ব্যক্তি হবেন। যে তাঁর জন্য ওয়াসিলা চাইবে, তার জন্য নবীর সুপারিশ প্রাপ্য হবে—এ সুসংবাদও এসেছে। তাই আজানের জবাব শুধু বাক্য পুনরাবৃত্তিতে শেষ হয় না; দরুদ ও দোয়াও এর অংশ। হাদিসের নির্দিষ্ট ক্রম ধরে আমল করলে বিষয়টি সহজে মনে রাখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুয়াজ্জিনের বাক্যের জবাব দিতে হবে।
- আজানের জবাবের পর নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওপর দরুদ পড়তে হবে।
- একবার দরুদে আল্লাহর দশ রহমতের কথা হাদিসে এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর জন্য ওয়াসিলা চাইলে তাঁর সুপারিশের সুসংবাদ আছে।
