১/৬৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮৪ - ওজুর পর দুই রাকাত সালাতের ফজিলত
কুলি করা ও নাক পরিষ্কার করা
ওজুর ফজিলত: একাগ্র মনে দুই রাকাত সালাত
সুনানে আন-নাসায়ী : ৮৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৮৪
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ قَالَ: رَأَيْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تَوَضَّأَ، فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ ثَلَاثًا فَغَسَلَهُمَا، ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا، ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلَاثًا، ثُمَّ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ غَسَلَ قَدَمَهُ الْيُمْنَى ثَلَاثًا ثُمَّ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي، ثُمَّ قَالَ: «مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيهِمَا بِشَيْءٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
হুমরান ইবনু আবান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি 'উসমান ইবনু 'আফফান (রাঃ)-কে ওজু করতে দেখেছি। তিনি তিনবার হাতে পানি ঢেলে হাত ধৌত করেন। এরপর গড়গড়া করে কুলি করেন এবং নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করেন, তিনবার মুখমণ্ডল ধৌত করেন এবং কনুই পর্যন্ত তিনবার ডান হাত ধৌত করেন। অনুরূপভাবে বাম হাতও। এরপরে মাথা মাসাহ করেন এবং ডান পা তিনবার ধৌত করেন। অনুরূপভাবে বাম পাও। এভাবে ওজু শেষ করে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ ওজু করতে দেখেছি এবং বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আমার এ ওজুর মতো ওজু করবে এবং তারপরে নিবিষ্ট মনের সাথে দুরাক্'আত সালাত পড়বে তার আগের সকল পাপ মাফ করে দেয়া হবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উসমান ইবন আফফান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মতো ওজু করে দেখান। তিনি প্রথমে হাত ধুলেন, কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, মুখমণ্ডল তিনবার ধুলেন, দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধুলেন, মাথা মাসাহ করলেন এবং দুই পা তিনবার করে ধুলেন। তারপর তিনি বলেন, তিনি রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-কে এভাবে ওজু করতে দেখেছেন। এরপর হাদিসে একটি বড় শিক্ষা এসেছে—যে ব্যক্তি এ ধরনের ওজু করে এবং দুই রাকাত সালাত পড়ে, যেখানে সে মনকে অন্য দিকে ছড়িয়ে দেয় না, তার আগের পাপ মাফ করে দেওয়া হবে। তাই ওজুর নিয়মের সঙ্গে মনোযোগী সালাতের সম্পর্কও এখানে পরিষ্কারভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর মতো ওজু করা সাহাবীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
- ওজুর পর দুই রাকাত সালাত আদায়ের ফজিলত হাদিসে এসেছে।
- সালাতে মনকে অযথা ব্যস্ত না রাখা এই বর্ণনায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে।
- ওজু ও সালাত—দুইটি আমল একসঙ্গে মানুষের জন্য কল্যাণের কারণ হতে পারে।
