১১/১৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮৯৬ - সালাতের শুরুতে একনিষ্ঠতা ও সুন্দর চরিত্রের দোয়া
ক্বিরাআত ও তাকবীরের মধ্যে অন্য দু‘আ
নামাজের শুরুর দোয়া: উত্তম কাজ ও চরিত্রের হিদায়াত
সুনানে আন-নাসায়ী : ৮৯৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৮৯৬
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُرَيْحُ بْنِ يَزِيدَ الْحَضْرَمِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنِي شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اسْتَفْتَحَ الصَّلَاةَ كَبَّرَ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ. اللَّهُمَّ اهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَعْمَالِ وَأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، وَقِنِي سَيِّئَ الْأَعْمَالِ وَسَيِّئَ الْأَخْلَاقِ لَا يَقِي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ»
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সালাত শুরু করতেন তখন তাকবির বলতেন। তারপর বলতেন- “ইন্না সলা-তী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়া-ইয়া ওয়া মামা-তী লিল্লা-হি রব্বিল 'আ-লামীনা লা- শারীকা লাহু ওয়াবিযা-লিকা উমিরতু ওয়া আনা- মিনাল মুসলিমীনা, আল্ল-হুম্মাহদিনী লিআহসানিল আ'মা-লি ওয়া আহসানিল আখলা-ক্বি লা- ইয়াহদী লিআহসানিহা- ইল্লা- আনতা ওয়াক্বিনী সাইয়িয়্যাল আ'মা-লি ওয়া সাইয়িয়্যাল আখলা-ক্বি, লা- ইয়াক্বী সাইয়্যিহা ইল্লা- আনতা"(নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সমস্ত পৃথিবীর প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই, তাঁর কোন অংশী নেই। আমি এ সম্বন্ধেই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের প্রথম। হে আল্লাহ! সুন্দরতম কাজ ও সুন্দরতম চরিত্রের প্রতি আমাকে পথ দেখাও, যেহেতু তুমি ছাড়া সুন্দরতম কাজ ও সুন্দরতম চরিত্রের প্রতি অন্য কেউ পথ দেখাতে পারে না। আর আমাকে মন্দ কাজ ও মন্দ চরিত্র থেকে রক্ষা কর, কেননা তুমি ছাড়া অন্য কেউ মন্দ কাজ ও মন্দ চরিত্র থেকে রক্ষা করতে পারে না।)।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সালাত শুরু করে তাকবীর বলার পর একটি দোয়া পড়তেন। দোয়ায় তিনি ঘোষণা করেন, তাঁর সালাত, কুরবানি, জীবন ও মৃত্যু বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর কোনো শরিক নেই এবং তিনি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। এরপর তিনি আল্লাহর কাছে সুন্দরতম কাজ ও সুন্দরতম চরিত্রের দিকে পথ দেখানোর আবেদন করেন। পাশাপাশি মন্দ কাজ ও মন্দ চরিত্র থেকে রক্ষা চান। হাদিসটির কেন্দ্রীয় বিষয় একনিষ্ঠ ইবাদত, ভালো কাজ ও উত্তম চরিত্রের হিদায়াত। এখানে দোয়ার ভাষাই শিক্ষা। তাই ব্যাখ্যায় বাহিরের কোনো ঘটনা যোগ করার দরকার নেই। নামাজের শুরুর দোয়া, উত্তম চরিত্রের দোয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বাঁচার দোয়া হিসেবে এটি খুব প্রাসঙ্গিক। এই দোয়া ইবাদতের উদ্দেশ্য ও চরিত্র গঠনের আবেদনকে একই সঙ্গে সামনে আনে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাত, কুরবানি, জীবন ও মৃত্যু আল্লাহর জন্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
- আল্লাহর কোনো শরিক নেই—এ কথা দোয়ায় এসেছে।
- উত্তম কাজ ও উত্তম চরিত্রের হিদায়াত চাওয়া হয়েছে।
- মন্দ কাজ ও মন্দ চরিত্র থেকে রক্ষা চাওয়া হয়েছে।
