১১/২৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯১৯ - জোরে কিরাআতে ইমামের পেছনে পাঠ
ইমাম স্বরবে কুরআন পাঠ করলে তার পেছনে ক্বিরাআত না করা
স্বরব সালাতে ইমামের পেছনে কুরআন পাঠের বর্ণনা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৯১৯
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৯১৯
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ ابْنِ أُكَيْمَةَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْصَرَفَ مِنْ صَلَاةٍ جَهَرَ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ: «هَلْ قَرَأَ مَعِي أَحَدٌ مِنْكُمْ آنِفًا؟» قَالَ رَجُلٌ: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: «إِنِّي أَقُولُ مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ» قَالَ: فَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ فِيمَا جَهَرَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْقِرَاءَةِ مِنَ الصَّلَاةِ حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উচ্চৈঃস্বরে ক্বিরাআত পাঠ করে সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের মাঝে কেউ কি আমার সাথে কোরআন পাঠ করেছে? এক ব্যক্তি বললো, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তিনি (ﷺ) বললেন, তাই তো আমি বলি আমার কি হলো যে, কোরআন পাঠে আমার ঝামেলা হয়? রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এ কথা শুনার পর থেকে তিনি যে সালাতে স্বরবে ক্বিরাআত পড়তেন তাতে লোকজন কোরআন পড়া ছেড়ে দিলো।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় স্বরব সালাতে ইমামের সঙ্গে একই সময়ে কুরআন পাঠ করা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমন একটি সালাত শেষ করেন, যেখানে তিনি উচ্চস্বরে কিরাআত করেছিলেন। এরপর জানতে চান, উপস্থিত কেউ তাঁর সঙ্গে কুরআন পড়েছিল কি না। একজন ব্যক্তি হ্যাঁ বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, এ কারণেই তাঁর কুরআন পাঠে যেন টানাপোড়েন বা বাধা অনুভূত হচ্ছিল। বর্ণনাকারী জানান, এই কথা শোনার পর লোকেরা যেসব সালাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উচ্চস্বরে কিরাআত করতেন, সেসব সালাতে কুরআন পাঠ করা ছেড়ে দেয়। এটি বর্ণনায় থাকা সাহাবিদের সেই সময়ের প্রতিক্রিয়া। হাদিসটি জামাতে ইমামের স্বরব কিরাআত মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং একই সঙ্গে এমনভাবে পাঠ না করার শিক্ষা দেয়, যাতে ইমামের কিরাআতে বিঘ্ন ঘটে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একই সময়ে পাঠ করলে ইমামের কিরাআতে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
- নবীর নির্দেশ শোনার পর সাহাবিরা নিজেদের আমল পরিবর্তন করেছেন।
- স্বরব সালাতে ইমামের কিরাআতের প্রতি মনোযোগ রাখা উচিত।
