৯/১৯৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৩/১১০১ - কাতারের ডান দিকের মর্যাদা
প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
কাতারের ডান দিকের ফজিলত ও জামাতের আদব
রিয়াদুস সালেহীন : ১৩/১১০১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৩/১১০১
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّه عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّه ﷺ:إِنَّ اللَّه وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلىٰ مَيَامِنِ الصُّفُوْفِ» رواه أبو داود بإِسناد عَلى شرْطِ مُسْلِمٍ، وفيهِ رجلٌ مُخْتَلَفٌ في توْثِيقِهِ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ অবশ্যই কাতারগুলোর ডানদিকের উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং আল্লাহর ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া করতে থাকেন। (আবূ দাউদ) [১]
আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি (বর্ণনাকারী উসমা হচ্ছেন উসামা ইবনু যায়েদ লাইসী। সমালোচক মুহাক্কেক আলেমদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে এই যে, তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে ভালো যদি তার বিরোধিতা করা না হয়। এ কারণে তার এ হাদীসকে একদল হাফিয হাসান আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু হাদীসটি এ ভাষায় শায অথবা মুনকার। কারণ তিনি অন্য সব নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করে এককভাবে এটিকে বর্ণনা করেছেন। আর বর্ণনাকারী মু‘য়াবিয়্যাহ্ ইবনু হিশামের মধ্যে তার হেফযের দিক দিয়ে দুর্বলতা রয়েছে। (তবুও বিরোধিতা না হয়ে থাকলে তার হাদীসও গ্রহণযোগ্য)। হাদীসটি নিরাপদ হচ্ছে (যেমনটি বাইহাক্বী বলেছেন) এ ভাষায়ঃ “আল্লাহ্ রহমাত নাযিল করেন আর ফেরেশতারা তাদের প্রতি রহমাত কামনা করে দু‘আ করেন যারা কাতার সমূহকে (ফাঁক না রেখে) পূর্ণ করে দাঁড়ায়”। যেমনটি আমি “মিশকাত” গ্রন্থের (নং ১০৯৬) টীকায় উল্লেখ করেছি আর “য‘ঈফু আবী দাঊদ” (নং ১৫৩) এবং “সহীহ্ আবী দাঊদ” গ্রন্থে (৬৮০) বর্ণনা করেছি। আবূ ৬৭৬, ইবনু মাজাহ ১০০৫।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৩/১১০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নামাজের কাতারের ডান দিকের একটি বিশেষ মর্যাদার কথা এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আল্লাহ কাতারগুলোর ডান দিকের উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া করতে থাকেন। তাই জামাতে নামাজ পড়ার সময় কাতারকে হালকা বিষয় মনে করা ঠিক নয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, নামাজের বাহ্যিক শৃঙ্খলাও ইবাদতের অংশ। মুসল্লি যখন কাতারে দাঁড়ায়, তখন তার দাঁড়ানোর জায়গা, কাতারের আদব এবং জামাতের নিয়মের প্রতি মনোযোগ থাকা দরকার। হাদিসটি কাউকে ঠেলাঠেলি করে ডান দিকে যাওয়ার কথা বলে না; বরং ডান দিকের ফজিলত জানিয়ে উৎসাহ দেয়। সুযোগ থাকলে ডান দিকে দাঁড়ানো ভালো আমলের একটি কারণ হতে পারে। তাই এই হাদিস থেকে শেখার সময় মূল বর্ণনার কথাই আগে রাখা দরকার, অতিরিক্ত দাবি বা কঠোরতা নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজের কাতারের ডান দিকের ফজিলত আছে।
- ফেরেশতাদের দোয়া পাওয়া আল্লাহর রহমতের একটি বড় নিদর্শন।
- জামাতে দাঁড়ানোর সময় কাতারের আদবকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
- ফজিলত জানলেও অন্য মুসল্লিকে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়।
